বরিশাল ব্যুরো
কারাগারের ফটকেই জীবন গড়ার হাতিয়ার পাচ্ছে কারাভোগকারীরা। গত এক বছরে এভাবে ১২ জনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি, সমাজসেবা অধিদফতর এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় চলছে এই পুনর্বাসন কার্য্যক্রম। যে তালিকায় সর্বশেষ যোগ হয়েছে খাদিজার নাম। গত সপ্তাহে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে সে। এরপর সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর তার হাতে তুলে দেয়া হয় ভবিষ্যত জীবন গড়ার হাতিয়ার সেলাই মেশিন। একটি অপহরণ মামলায় গ্রেফতার হয়ে ৬ মাস ১৮ দিন যাবত কারাগারে ছিল সে। মুক্তি পাওয়ার পর সংশোধন ও পূনর্বাসন সমিতির পক্ষ থেকে তার হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। জীবিকা নির্বাহের জন্য একইভাবে আরো ১১ জনের মাঝে সেলাই মেশিন আর রিক্সা ভ্যান দেয়া হয়েছে এই কর্মসূচীর আওতায়।
খাদিজা বেগম বাকেরগঞ্জ উপজেলায় কৃষ্ণকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শহীদুল ইসলাম’র স্ত্রী। তাদের দাম্পত্য জীবনে রয়েছে তিন মেয়ে আর দুই ছেলে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের ১২ তারিখ বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ একটি অপহরণ মামলায় গ্রেফতার করে তাকে জেল হাজতে পাঠায়। কারাগারে ৬ মাস থাকা কালীন খাদিজা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির মাধ্যমে সেলাই মেশিন চালানো শেখেন। আর এই কর্সেমসূচীর আওতায়ই তাকে কারামুক্তির পর দেয়া হয় সেলাই মেশিন। এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক আল মামুন তালুকদার, ইউনিসেফ চীফ এএইচ তৌফিক আহমেদ, প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজসহ আরও অনেকে।

আরেক বন্দির নাম আবদুর রহমান। তার বাড়ি বরিশালের হিজলা উপজেলায় নরসুন্দরপুরে। তিনি চুরি মামলায় ঢাকা থেকে আটক হন। এর পর দেড় বছর কারাগারে কাটে আবদুর রহমানের। আবদুর রহমান বলেন, ‘আমি ঢাকাতে রিক্সা চালাতাম। একদিন এক সোয়াড়ী (যাত্রী) ওঠে। কিন্তু সে পুলিশ দেখে রিক্সায় মালামাল রেখেই পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আমাকে আটক করে। সেই মামলায় দেড় বছর কারাভোগ করতে হয় আমাকে। কারাগারে আমাকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করেন স্যারেরা। পরে কারামুক্তি পেলে তারা আমাকে একটি ভ্যান গাড়ী দেয়।’ আবদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ‘এখন তিনি সেই ভ্যান ঢাকাতে চালিয়ে ভালই আছেন। কারাগার থেকে যে শিক্ষা পেয়েছেন তা এখন তার বাস্তব জীবনে কাজে লাগছে।’
অপহরণ, মাদক, চুরিসহ বিভিন্ন মামলায় কারা ভোগ করে এরা ছাড়াও পুনর্বাসনের আওতায় এসেছেন লিনা বেগম, সাথী আক্তার, লাকি আক্তার, আয়শা, জসিম উদ্দীন, রতন প্রভা হালদার, জেসমিন সুলতানা, পিয়ারা, খালেদা আক্তার ও কনা বেগম। এ ব্যাপারে সমাজসেবার প্রবেশন অফিসার ও অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, সমিতির মাধ্যমে বন্দিদের আমরা কাউন্সিলিং করে থাকি। পাশাপাশি জীবন দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে যেমন, সেলাই, কাঠ মিস্ত্রী, বেতের কাজ, ইলেকট্রনিক্স। আর বন্দিরা যখন কারাভোগ করে বের হন, তখন তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি। এছাড়া বন্দিদের চিত্ত বিনোদনের জন্য টেলিভিশন, খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। তাদের নিয়ে করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা মাদক বিরোধী কর্মসূচী। ##