• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ৪, ২০২১, ০২:১৪ পূর্বাহ্ণ
ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট:
ইলিশের প্রজনন মৌসুম সামনে রেখে আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশ আহরণ, বিপণন ও পরিবহণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

সারা বছরই ইলিশ কম বেশি ডিম ছাড়লেও আশ্বিনের অমাবস্যা-পূর্ণিমাই ইলিশের ডিম ছাড়ার প্রধান সময়। এ সময় সাগর থেকে ডিম ছাড়তে ইলিশ ছুটে আসে নদীতে। মা ইলিশ রক্ষা করতে প্রতিবছরের মতো এবারো মোট ২২ দিন নদ-নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে রোববার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে এ বছর ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। নৌ-পুলিশ এ বছর নদীতে ভাসমান ফাঁড়ি পরিচালনা করবে এবং সার্বক্ষণিক একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখবে। বিমান বাহিনী আকাশপথে নজরদারি গত বছরের চেয়ে বাড়াবে এবং রাতের বেলা টহল জোরদার করবে। নৌবাহিনী ৯টি জাহাজের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করবে। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ভারতীয় কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করবে, যাতে ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরতে না পারে।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে মৎস্য উৎপাদন বাড়ছে, ইলিশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

যে ৩৮টি জেলায় অভিযান পরিচালনা করা হবে সেগুলো হলো- ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বাগেরহাট জেলার নদ-নদী, মোহনা ও সাগরে ইলিশসহ সব প্রকার মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, জামালপুর, রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনা, কুষ্টিয়া ও নড়াইল জেলার নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে ‘প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ অ্যাক্ট, ১৯৫০’ এর অধীন প্রণীত ‘প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ রুলস, ১৯৮৫’ অনুযায়ী ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। উল্লিখিত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় দণ্ডনীয় অপরাধ। এ আইন অমান্যকারী কমপক্ষে ১ থেকে সর্বোচ্চ ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত জেলেরা ২০ কেজি করে চাল সহায়তা পাবেন । প্রকৃত জেলেরা যাতে দ্রুত এ সহায়তার চাল পান, তা নিশ্চিতের উপকূলের জেলেদের তাগিদ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে ভারতীয় জেলেরা দেশের জলসীমায় প্রবেশ করে নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকার করে বলে জেলেদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে । এ ধরনের তৎপরতা বন্ধের দাবি করেন জেলেরা।

গত বছর এই নিষেধাজ্ঞা ছিল ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু এবার অমাবস্যাকে সামনে রেখে ৬ অক্টোবরে এগিয়ে আনা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা শুরুর সময়।