আমতলী : সাড়ে তিন মাস পরেও আমতলীতে ইউপি নির্বাচনের জের ধরে তিন নৌকার সমর্থককে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত তিনজনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে আমতলী উপজেলার চিলা বিশ্বাসের হাটে।
জানাগেছে, উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের মোঃ মশিউর রহমান বিশ্বাস গত ২০ জুন অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মোঃ শহীদুল ইসলাম মৃধার সমর্থণ করে। নির্বাচনে প্রচারকালীন সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিকের সমর্থক আলমগীর বেপারীর সাথে তার সামান্য কথা কাটিকাটি হয় এমন দাবী মশিউরের। এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার রাতে মশিউর রহমান বিশ্বাসকে একটি চায়ের দোকানে পেয়ে আলমগীর বেপারী, নিজাম গাজী, জাকির গাজী, মাসুদ খান ও আবু বকর গাজীসহ ৭-৮ জনে লোহার রড দিয়ে পিটেয়ে গুরুতর জখম করে। খবর পেয়ে মশিউরের চাচা হারুন বিশ্বাস ও চাচাতো ভাই আবু নাশের বিশ্বাস তাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তাদেরকেও পিটিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
আহত মশিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আলমগীর বেপারীসহ কয়েকজনের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে আমাকে আলমগীর বেপারী, নিজাম গাজী, জাকির গাজী, মাসুদ খাঁন ও আবু বকর গাজীসহ ৭-৮ জনে লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। আমাকে রক্ষায় আমার চাচা ও চাচাতো ভাই এগিয়ে এলে তাদেরকেও পিটিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমগীর বেপারী অসুস্থতার কথা বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।
হলদিয়া ইউনিয়র পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল ইসলাম মৃধা বলেন, নির্বাচনী জের ধরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা আমার তিন সমর্থককে লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে।
হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক বলেন, সাড়ে তিন পরেও কি নির্বাচনের জের থাকতে পারে? সুবিধা নিতে স্থানীয় গন্ডগোল নির্বাচনে জের হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ সুমন বিশ্বাস বলেন, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছি। অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।