• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হিজলায় মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দিয়ে ফাঁসানো হলো যুবককে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৩, ২০২১, ০৮:০১ পূর্বাহ্ণ
হিজলায় মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দিয়ে ফাঁসানো হলো যুবককে

হিজলা প্রতিনিধি
বরিশালের হিজলা উপজেলার হিজলা গৌরব দি ইউনিয়নের এক যুবককে মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টার মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় উপজেলার হিজলা গৌরব দি ইউনিয়নের চর কুসুরিয়া গ্রামের আনোয়ার মোল্লার বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী বাড়ির জাকির জমাদ্দার এর স্ত্রী খাইরুন নাহার গত 11 অক্টোবর হিজলা থানায় একট ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ দেয়। ওই মামলায় আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে হিজলা থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে এলাকায় সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান। গত 10 ই অক্টোবর জাকির জমাদ্দারের ছাগলে পার্শ্ববর্তী বাড়ির আনোয়ার মোল্লার পেয়ারা বাগানে গিয়ে পেয়ারা গাছ খায় ও অনেকগুলো চারা ভেঙে ফেলে। এ নিয়ে আনোয়ার মোল্লার স্ত্রী কুলসুম বেগমের সাথে জাকির জমাদ্দার এর স্ত্রী খায়রুন নাহার এর সাথে ঝগড়া হয়। তখন জাকির জমাদ্দার ও আনোয়ার মোল্লার সাথে প্রচুর ঝগড়া হয়। তখন তারা একে অপরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ ঘটনায় জাকির জমাদ্দার এর পিতা কাঞ্চন জমাদ্দার ওই দিন সন্ধ্যায আনোয়ার সরদার এর সাথে জাকির জমাদ্দার এর ঝগড়ার মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী মান্দ্রা বাজারে আসতে বলে। সেই সুবাদে আনোয়ার মোল্লা কাঞ্চন জমাদ্দার এর এর ভাতিজা খলিল জমাদ্দারের মুদির দোকানে এসে উপস্থিত হয়। এই সময় কোন মীমাংসা না করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কাঞ্চন জমাদ্দারের ছেলে ও ভাতিজারা ওই দোকানের ভিতর আটক করে রাখে। এবং কাঞ্চন জমাদ্দারের ছেলে জাকির জমাদ্দার রুবেল জমাদ্দার সেলিম জমাদ্দার সোহেল জমাদ্দার তার ভাতিজা খলিল জমাদ্দার মিলন জমদ্দার রিয়াজ জমাদ্দার ও ফারুক জামাদার সহ 15 থেকে 20 জন আনোয়ার মোল্লার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এবং বেদম মারপিট করে। তখন আনোয়ার মোল্লার ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তখন তারা তাকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পায়। তখন স্থানীয়রা আনোয়ার মোল্লা কে উদ্ধার করে রাতেই বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল এ চিকিৎসার জন্য পাঠায়। তখন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে। পরের দিন অর্থাৎ 11 অক্টোবর ক্ষমতাসীন দলের একটি প্রভাবশালী মহলের তদবিরে কাঞ্চন জমাদ্দারের ছেলে জাকির জমাদ্দার এর স্ত্রী খাইরুন নাহার কে বাদী করে উল্টো আনোয়ার মোল্লার বিরুদ্ধে হিজলা থানায় মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টার মামলা করে। এবং কাঞ্চন জমাদ্দার ও তার পুত্রবধু খায়রুন নাহার হিজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেচিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়। ওই মামলায় ওই দিনেই হিজলা থানার এসআই মনির হোসেন আনোয়ার হোসেনকে শেরে বাংলা মেডিকেল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক করে। হিজলা হিজলা থানায় নিয়ে আসে। এবং 12 ই অক্টোবর বরিশাল জেল হাজতে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে জাকির জমাদ্দার এর মেয়ে জানায়। গত 10 ই অক্টোবর রবিবার বিকালে তাদের ছাগলে আনোয়ার মোল্লার পেয়ারার বাগানে গিয়ে পেয়ারা চারা খেয়েছে। এ নিয়ে তখন আনোয়ার মোল্লার স্ত্রী কুলসুমের সাথে তার মায়ের ঝগড়া হয়েছে। তখন আনোয়ার মোল্লার স্ত্রী তার মাকে জারু দিয়ে দুটি বাড়ি দিলে তার মা তার দাদা বাড়ি চলে যায়। পরেরদিন জানতে পারেন তার মা এবং দাদা হিজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এলাকার মুরুব্বী ও সমাজ সেবক দের দাবি। কাঞ্চন জমাদ্দার স্থানীয় একজন প্রভাবশালী লোক হওয়ায় অসহায় দিনমজুর আনোয়ারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টা মামলা করেছেন। এবং সেই মামলায় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাই প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলকে সরজমিনে এসে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করার জোরালো দাবি জানান। তাহলেই আসল সত্য ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে। তা না হলে কাঞ্চন জমাদ্দার গং রা এভাবেই সাধারণ অসহায় গরিব নিরীহ জনগণের উপর শোষণ চালিয়ে যাবে। তারা আরো জানান যেখানে আনোয়ারকে রট ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে তার মাথায় বিভিন্ন স্থানে জখম করেছে। যেখানে তিনি আইনের আশ্রয় নিবেন সেখানে উল্টো মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন। এ ব্যাপারে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউনুস মিয়া ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনিরের সাথে আলাপকালে তারা জানান। ভিকটিম থানায় উপস্থিত হয় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ দিলে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে মামলাটি এজাহার করা হয় এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও তারা আরো জানান পরবর্তীতে সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।