ডেস্ক রিপোর্ট:
ইয়াবা কারবারীরা এবার বন্ধক রাখছে মানুষ। কক্সবাজারের ডিলারদের কাছে মাদকের টাকার নিরাপত্তা হিসেবে এসব মানুষকে বন্ধক রাখা হচ্ছে। ঢাকার কারবারিরা ইয়াবা বিক্রির পর বকেয়া টাকা পরিশোধ না করলে নির্যাতন চলে বন্ধক রাখা ব্যক্তির ওপর। পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় বকেয়া অর্থ।
রাজধানীর হাতিরঝিল থানার একটি অপহরণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই অভিনব ও অমানবিক পন্থার খোঁজ পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
রাজধানীর মগবাজারের ফরহাদ হোসেন স্থানীয় বড় ভাই লাদেনের প্রস্তাবে ২ সেপ্টেম্বর ঘুরতে যান কক্সবাজার। পরদিন ফরহাদকে টেকনাফের গহীন সাবরাং এলাকায় নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় ।
ফরহাদের খোঁজ না পেয়ে দিশেহারা পরিবারের কাছে ২৬ সেপ্টেম্বর এক ব্যক্তি ফোনে জানান অপহরণের কথা। জীবিত ফিরে পেতে দাবি করা হয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। অপহরণকারীদের ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে ছেলের মুক্তি না মেলায়, হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন ফরহাদের বাবা।
তদন্তে নেমে টেকনাফের গহীন এলাকা থেকে ফরহাদকে উদ্ধার করে ডিবি। অভিযানে গ্রেপ্তার হয় তিন অপহরণকারী। তাদের দেয়া তথ্যে রাজধানী হাতিরঝিল থেকে গ্রেপ্তার হয় প্রধান আসামি সামির ওরফে লাদেন।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ইয়াবা পাচারের নতুন এক পন্থা। ফরহাদকে মাদক কারবারিদের কাছে বন্ধক রেখে টেকনাফে থেকে ২০ হাজার ইয়াবা আনেন লাদেন। বকেয়া টাকা পরিশোধ করলে ফরহাদকে ছেড়ে দেয়ার চুক্তি হয়। কিন্তু, লাদেন নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করায় ইয়াবা কারবারিরা ফরহাদের পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে।
মানুষ বন্ধক রেখে ইয়াবা কারবারের এমন একাধিক চক্র জাড়িত, বলছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান।
ইয়াবার কারবার ও লেনদেন সহজ করতেই মাদক ব্যবসায়ীরা মানুষ বন্ধক রাখার অভিনব এ পন্থাকে বেছে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম।