বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বানারীপাড়ায় অর্থ অভাবীদের জন্য কেয়ার কমপ্লেক্স’র উদ্যোগে “ফ্রি” চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। যারা অর্থের অভাবে চুক্ষু চিকিৎসা করতে না পেরে এ পৃথিবির আলো-বাতাস দেখতে পাছেন না, তাদের জন্য শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন ইসলামিয়া কলেজ কম্পাউন্ডে গ্লোবাল মেডিকেল ফাউন্ডেশন অস্ট্রেলিয়া ভিশন ২০২১ মসজিদবাড়ি কেয়ার কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এ “ফ্রি” চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সেখানে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কানিচ ফাতেমা ও ডাক্তার বেনজির ভূট্টা বানারীপাড়া ও পাশর্^বর্তী বিভিন্ন উপজেলার ৪৬৫ জন রোগীকে “ফ্রি” চক্ষু চিকিৎসা দেয়া হয়। এদের মধ্য থেকে ওই দিন বিকেলে কেয়ার কমপ্লেক্স’র উদ্যোগে ৪৫ জনকে চোখের সানী ও ১০ জনকে নেত্রনালী অপারেশন করার জন্য ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাদের চোখের অপরেশন সম্পন্ন হওয়ার পর কেয়ার কমপ্লেক্স’র রোববার বিকেলে তাদেরকে নিজ এলাকায় পৌছে দেয়া হবে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন ইসলামিয়া কলেজ এবং মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো.জাহিদুল হক দুলাল যুগান্তরকে জানান। তিনি আরও জানান, এর পূর্বের তিন মাসে উক্ত প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিভিন্ন উপজেলার ১৩৫৫ জন চক্ষু রোগীকে “ফ্রি” চক্ষু চিকিৎসা সেবা দেয়ার পাশাপাশি ১২০ জনকে চোখের সানী ও ৩০ জনকে নেত্রনালী অপারেশন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়।
এব্যাপারে কেয়ার কমপ্লেক্সের সভাপতি মো.জাহিদুল হক দুলাল জানান, এলাকার খেটে খাওয়া অসহায় পরিবারের শিক্ষার্থীদের আলোকিত করার জন্য তিনি নিজ উদ্যোগে সয়দকাঠী ইউনিয়ন ইসলামিয়া কলেজ ও সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান করেছেন। এক্ষেত্রে তার উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও পার্শবর্তী বিভিন্ন উপজেলায় যারা অর্থের অভাবে চক্ষু চিকিৎসা করতে পাছেন না, তিনি তাদের জন্য ‘ফ্রি’ চক্ষু চিকিৎসা-সেবা দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন ইসলামিয়া কলেজটি এক বছর পূর্বে সরকারী ভাবে এমপিওভূক্ত হলেও ফলাফলের দিক থেকে ভাল করা সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভূক্ত করা হয়নী। ফলে এর পূর্বের প্রতি মাসে তাকে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে হতো। এখন সেখানে তাকে একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। তিনি ওই বিদ্যায়টি সরকারী ভাবে এমপিও ভূক্ত করার দাবী জানিয়েছেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ বসাক, কেয়ার কমপ্লেক্সের কো-অডিনেটর নারগীস সুলতানা, সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমল কান্তি বিশ^াস, সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন কান্তি সরকার, প্রভাষক মো. আব্দুল বাকী প্রমূখ।