ভোলা সদর প্রতিনিধি:
ভোলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক জুড়ে গত কয়েকদিন যাবত সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয় নিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনার দৃষ্টি হয়।
সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নাম উল্লেখ করে স্ট্যার্টাস দেন অনেকেই। যাঁর মধ্যে পূর্ব ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নাম রয়েছে। এতে চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছেন পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসনাইন আহমেদ হাসান।
যাঁর কারনে এনিয়ে গত (৬ নভেম্বর) শনিবার ভোলা সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। যাঁর জিডি নম্বর-২৬৭/২১। সেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কয়েকটি আইডিতে দেওয়া পোস্ট, কমেন্ট ও শেয়ারের প্রিন্ট কপিও সংযুক্ত করা হয়।
জিডিতে চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ গত কিছুদিন যাবত তাকে ও তাঁর পরিষদের সম্মান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সরকারি আইন বিধি না মেনে কয়েকটি ফেসবুক আইডি দিয়ে পরিষদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ বিষয়ে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন পোস্ট, কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এমন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জিডিতে রাকিব হাওলাদার, মো. রাসেল হোসেন, আকতার হোসাইন চয়ন, মো. মিজানুর ও বিল্লাল হাজীসহ দশটি ফেসবুক আইডির নামও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে গত (৪ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই ইউনিয়নের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের কক্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। ভাইরাল ভিডিওতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের দায়িত্বে থাকা নাঈম নামে একজনের কথোপকথন হয়। ৩ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ৩ থেকে ৪ জন ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়। যেখানে ভুক্তভোগীরা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ করেন।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের দায়িত্বে থাকা নাঈম জানান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের সরকারি ফি ৫০ টাকা। সেখানে তাঁরা ১৫০ টাকা করে নিতো। সম্প্রতি এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তাঁর পর থেকে এখন ৫০ টাকার বেশি কোনো টাকাই নেওয়া হচ্ছে না।
তবে এবিষয়ে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসনাইন আহমেদ হাসান অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে রাজি হননি।