বাবুগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর বক্তব্যে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় এক উঠান বৈঠকে তার দেওয়া বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে।
বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মৃধা মু. আক্তারুজ্জামান মিলনের বক্তব্য ‘বাবুগঞ্জ দর্পণ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে লাইভ করা হয়। ইউনিয়নের মীরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন রাজগুরু গ্রামে উঠান বৈঠকে মিলনের ৪১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওর ১০ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পর বলতে শোনা যায়-‘আমি আপনাদের একটি সম্পদ। এর আগের নির্বাচনে আমার ভোট রাশেদ খান মেনন চুরি করে নিয়ে গেছে। বাবুগঞ্জের ওসি মাহাবুব গৌরনদীর জামাই ছিলেন। এ সুফিয়ান ভাই (পাশের এক সমর্থক) সেদিন বলতেছিল আমার ভোট ঘোরানোর জন্য ওসি নির্দেশ দিয়েছেন। সে গত নির্বাচনে সরোয়ার মাহমুদের পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন সেন্টারে আমার ভোট কেটেছে। সেন্টারে সেন্টারে গিয়ে গুলি করেছেন। এ কথা জানতে পেরে আমি মুজিব কোট খুলে ওসির চেম্বারে গিয়ে তার চেয়ারে বসিয়ে ৪-৫টি কেনু (মারধর) দিয়েছি ভাই। যে শালা তুই (ওসি) কিভাবে আমার ভোটটা ঘুরাও (বদল কর)।’
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা জানান, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে মিলন ওসিকে মারধরের কথা প্রচার করছেন। একইসঙ্গে এলাকার বিভিন্ন লোককে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথাও বলছেন। মিলনের এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় ভোটাররা আতঙ্কিত বলে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীন মিয়া অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমরা তার বক্তব্য শুনেছি। তিনি ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন যাতে ভোটাররা নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে না যান। তিনি শুধু ওসিকে মারধরের বক্তব্য দিয়েছেন এমন নয়-জেলার অন্য উপজেলার চেয়ারম্যান, বহিরাগতদের এনে জড়ো করছেন। সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতেই তার এসব চেষ্টা। মিলনের বক্তব্য অভিযোগ আকারে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আমরা পাঠিয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই, দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার সব ইউনিয়নে যেভাবে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে তেমনি রহমতপুর ইউনিয়নে সুষ্ঠু ভোট উপহার দিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসন উদাহরণ সৃষ্টি করবে। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন। ওসিকে মারধরের বক্তব্যের বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মিলন বলেন, ‘গত নির্বাচনে (২০১৬ সাল) বাবুগঞ্জের তৎকালীন ওসি মাহাবুব আমার তিনটি কেন্দ্রে গুলি করেছেন। সেই তিনটি কেন্দ্রে আমি বিজয়ী হতাম। কিন্তু ওসি টাকা খেয়ে আমাকে হারিয়ে দিয়ে গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘সাবেক ডিআইজি হুমায়ুন ফোন করে আমাকে গালি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক ডিসি রায়হানও আমাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বক্তব্যে মানুষ অনেক কথাই বলে। বক্তব্য আর বাস্তবতা এক নয়। থানার ওসিকে মারধরের ঘটনা সত্য নয়। তবে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব নিয়ে আমার লোকজনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তবে বুধবারের সভায় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভোট পাওয়ার জন্য এটুকু বলতে হয়েছে।’ চেয়ারম্যান প্রার্থী মিলন আরও বলেন, ‘বক্তব্যে আমি পুলিশে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলাম, হতে পারে সেভাবে বোঝাতে পারিনি। আমি বলতে চেয়েছি, আমি ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাবস্থায় যারা আমার কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়েছেন তাদের কারোর কাছ থেকে আমি একটা টাকাও নেইনি।’এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, আগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মিলন থানায় ঢুকে ওসিকে মারধর করেছেন এমন বক্তব্য আমি এখনো শুনিনি। বিষয়টি জেনে আমি জানাব।
ADVERTISEMENT
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ওসিকে মারধর করার বক্তব্য অবশ্যই নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন। এছাড়া কাউকে চাকরি দেওয়ার কথা প্রচার করা, পেশিশক্তি ব্যবহারের হুমকি দেওয়াও লঙ্ঘন। প্রচার-প্রচারণায় এমন আচরণ করলে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কেউ এখনও এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে রহমতপুর ইউনিয়নে ২৮ নভেম্বর ইভিএমে ভোট হবে। এ ইউনিয়নে পাঁচজন চেয়ারম্যান ও ৩৩ জন সংরক্ষিত এবং সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১০টি ভোটকেন্দ্রে ২১ হাজার ৫৫৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
সূএঃ যুগান্তর