জুয়েল ফরাজী, কুয়াকাটা\ ঘূর্নিঝড় ‘জাওয়াদ’ আরও উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। রাত থেকেই উপকূলীয় এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন রয়েছে। শীত এবং বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। কুয়াকাটায় ক্ষুদ্র আচার ব্যবসায়ী রাসেল জানায়, প্রতিদিন তার প্রায় ৮’শ থেকে ১ হাজার টাকা খরচ হলেও বৈরি আবহাও থাকার কারনে কুয়াকাটা পর্যটক শূণ্য তাই কোন বিক্রি হয়নি।
সোমবার (৬ ডিসেম্বার) সকালে সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটক শূন্য কুয়াকাটার একটি অন্যরকম দৃশ্য। সৈকতের চারদিক জনমানবশূন্য। বীচের বেঞ্চ, ছাতা মালিক, বোট মালিক ও ফটোগ্রাফাররা বেকার সময় পার করছেন।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বছরের মধ্য নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কুয়াকাটা ভরা পর্যটন মৌসুম। এ সময়ে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো। প্রতিদিনই বেড়াতে আসে অন্তত ২০ হাজারেরও বেশী পর্যটক। কিন্তু গত ৪ ডিসেম্বার ঘূর্নিঝড় ‘জাওয়াদ’ এর ফলে বেড়াতে আসা পর্যটকের ঢলে ভাটা পড়েছে, হোটেল কক্ষের বুকিং ক্যান্সেল করছেন।
কুয়াকাটা পৌর শহরের মটরবাইক চালক শাহাদাৎ হোসেন সবুজ জানান, প্রতিদিন সকালে কুয়াকাটায় আসা ভ্রমন পিপাষুদের নিয়ে বের হয় এবং আয় সন্তোষজনক কিন্তু‘ আজ সকাল থেকে হালকা শীত ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সকাল থেকেই আমাদের আয়-ইনকাম বন্ধ রয়েছে। পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টির পরিমান কিছুটা বাড়তে পারে, সেই সঙ্গে শীতের তীব্রতাও বাড়তে বাড়ে। তবে ঘূর্নিঝড় ‘জাওয়াদ’ ভারতের উপকূল দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।