টেকনাফ প্রতিনিধি
কক্সবাজারে টেকনাফে তানহা গ্যাস ফেয়ারের গ্যাসের খালি সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছ বিজিবি। এসময় জব্দ করা হয়েছে পাচারকাজে ব্যবহৃত পরিবহনটি।
মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) ২ বিজিবির আওতাধীন দমদমিয়া চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে টেকনাফ থানা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে মোঃ মামুনুর রশিদ (২৫), টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম গোদার বিল এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ (২৫), একই ইউনিয়নের মহেশখালী পাড়ার মৃত অলি আহমদের ছেলে মোঃ কাউসার (২০)।
টেকনাফ থেকে খালী গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক দমদমিয়া চেক পোস্টে পৌছালে গাড়িটি তল্লাশী করা হয়। তল্লাশী কালে চালকের সিটের নিচে চুম্বক দিয়ে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে চালক-হেল্পারসহ ৩ জনকে গ্রফতার করে গাড়িটি জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত মালামালসহ আসামীদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার এসআই আব্দুল বাতেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, টেকনাফ পৌর শহরে তানহা গ্যাস ফেয়ার নামক প্রতিষ্টানটির মালিক কুলাল পাড়া এলাকার রশিদ আহমদের পুত্র দেলোয়ার হোসেন টিটু। সে একজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকাভূক চিহ্নিত মাদক কারবারী। মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে প্রাণ ভয়ে পলাতক ছিলো। মাদক পাচারের সুবিধার্থে প্রতিষ্টানটি টেকনাফ পৌরসভায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অনুমোদন নিয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়াতে তার ভাই জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অবৈধ ভাবে গড়ে তুলেছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় ও মজুদ কেন্দ্র। দমদমিয়া থেকেই ইয়াবার চালান গুলো সিলিন্ডারবাহী পরিবহনে করে পাচার করে বলে জনশ্রতি রয়েছে। টিটুর সাথে দুটি প্রতিষ্টানই পরিচালনা করেন তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর ও তার পুত্র জুয়েল। এরা পিতা পুত্রের বিরুদ্ধেও ইয়াবা কারবারের অভিযোগ রয়েছে। চক্রটি দ্বীর্ঘ দিন ধরে খালী গ্যাস সিলিন্ডারবাহী পরিবহনে মাদক পাচার নির্ভিগ্ন করতে মাদকের টাকায় নিজেদের মালিকানায় নিয়েছে তিনটি পরিবহন। বিজিবি কর্তৃক আটক (কুষ্টিয়া ট-১১০৪৩৮) পরিবহনটির মালিক জাহাঙ্গীরের পুত্র জুয়েল।
উল্লেখ্য, বিগত সময়েও টেকনাফের ভিন্ন দুটি প্রতিষ্টানের খালি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী পরিবহন ও সিলিন্ডার থেকে বিপুল পরিমান মাদকের চালান আটক হয়েছিলো চট্টগ্রামে। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানের মালিকরা কৌশলে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে বাদ পড়ে যায়।