মনজুর রহমান,লালমোহনঃ
১৯৭১ সালের ৯মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ৩০লক্ষ শহীদ ২লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হারানোর বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন। ১৬ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার আকাশে উড়ে লাল সবুজের পতাকা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা ও জাতীয় শোক দিবসের দিনে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এছাড়াও মানুষ শখ ও ভালবাসার টানে বাড়ির ছাঁদে, রিকশা, সাইকেল ও গাড়ির সামনে ঝুলিয়ে রাখেন লাল সবুজের পতাকা।
আর এসব দিবসে জাতীয় পতাকা বিক্রি করেন একশ্রেণির মৌসুমি বিক্রেতা।
তেমনি এক পতাকা বিক্রেতা মাদারীপুর জেলার খবির বেপারির ছেলে খলিল বেপারি। মঙ্গলবার সকালে কাঁধে বাঁশের লাঠিতে ছোট বড় ও মাঝারি সাইজের পতাকা ঝুলিয়ে ভোলার লালমোহনের সদর বাজারের বিভিন্ন স্থান ঘুরতে দেখা যায় তাকে।
এসময় আলাপকালে খলিল বেপারির জানান, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা থেকে পতাকা নিয়ে লালমোহনে এসেছেন। প্রায় ৭/৮ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পতাকা বিক্রি করতেন তিনি। প্রতিদিন গড়ে ১৫শত থেকে ২হাজার টাকার পতাকা বিক্রি করেন তিনি। পতাকা বিক্রিতে আশানুরূপ রোজগার না হলেও এতে মনে আনন্দ পান বলে জানান খলিল বেপারি।
খলিল বেপারি আরও জানান, স্ত্রী, তিন সন্তান নিয়ে তার পরিবার। শুধুমাত্র দিবসগুলোকে লক্ষ রেখেই পতাকা বিক্রি করেন তিনি। অন্য সময়ে ইজি বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
খলিল বেপারি বলেন, সাইজ অনুযায়ী পতাকার দাম নেন তিনি। ১০টাকা থেকে শুরু করে ১৫০টাকা দামের পতাকা রয়েছে তার কাছে। তবে বাচ্চাদের জন্য তৈরিকৃত ১০টাকার পতাকাটির চাহিদা বেশি।
আর বাচ্চাদের হাতে লাল সবুজের পতাকা তুলে দিয়ে মনে যেন প্রশান্তি পান।
শুধু খলিল বেপারিই নন। মাদারীপুর থেকে লালমোহনে পতাকা বিক্রি করতে আরও দুইজন এসেছেন। তারা গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে গিয়ে পতাকা বিক্রি করছে বলেও জানান খলিল বেপারি।
লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে গেলে খলিল বেপারির কাছ থেকে দশ টাকায় একটি পতাকা কিনে শিশু তাসপিয়া।
এসময় তাসপিয়ার বাবা ফয়সাল জানান, তাসপিয়া কে নিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলা দেখতে এসেছিলেন। এসময় পতাকার ফেরিওয়ালাকে দেখে পতাকা কিনে দেয়ার বায়না করলো সে। তাই একটি পতাকা কিনে দিলাম।