• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাত জেগে নৌযাত্রা:যাত্রীদের আতঙ্ক! 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৫, ২০২১, ২০:৩২ অপরাহ্ণ
রাত জেগে নৌযাত্রা:যাত্রীদের আতঙ্ক! 

সৈয়দ নূর-ই-আলমঃ

বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদির তীরে চলন্ত লঞ্চে তীরে চলন্ত লঞ্চে অগ্নিবিস্ফোরণের ঘটনার পর ঢাকা ট্যু বরগুনা রুটের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। এক সময়ের আরামদায়ক যাত্রা এখন আতঙ্কে পরিনত হয়েছে।নির্ঘুম রাত জেগে চলছে যাত্রীদের যাত্রা।

রবিবার সন্ধার পর বেতাগী থেকে ঢাকার উদ্দ্যশে ফারহান-৮ ও শাহরুখ-১ নামের দুটি বিলাশবহুল লঞ্চে প্রায় সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়।

লঞ্চে থাকা বেতাগী উপজেলার একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা হলে তারা জানান,’লঞ্চে হাজারো যাত্রী রয়েছে কিন্তু কারো চোখে ঘুম নেই। সবাই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। কেউ কেউ কুরআন তিলওয়াত করছে। আগের মতো সেই মজার লঞ্চ ভ্রমণ এখন আর নেই।

লঞ্চে থাকা যাত্রী যমুনা টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি ফেরদৌস খান ইমন জানান, লঞ্চের সকল যাত্রীর চোখে মুখে আতঙ্ক। কারো মধ্যে কোন উৎফুল্লতা নেই। কি মর্মান্তিক অবস্থা দুদিন ধরে চোখের সামনে দেখেছি। মানসিকভাবে আমারও খুব খারাপ লাগছে।

এদিকে বেতাগী লঞ্চ টার্মিনালের সুপারভাইজার কামরুল ইসলাম বলেন, লঞ্চে আগুন লাগার পর থেকে এই দুদিন যাত্রীর সংখ্যাও কমে গেছে। অনেকেই সড়ক পথে ঢাকা যাচ্ছে ও আসছে। আজ বেশ কয়েকটি লঞ্চের কেবিন খালি গেছে। অনেকে শীতের মধ্যেও ভয়তে কেবিন নিচ্ছেনা। এমন মর্মান্তিক অবস্থা আমি নিজেও জন্মের পর দেখিনি।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রায় চারশ যাত্রী নিয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে লঞ্চটি ঢাকা সদরঘাট থেকে ছেড়ে যায়। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পৌঁছলে রাত ৩টার দিকে এতে আগুন ধরে যায়। পরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের দিয়াকুল এলাকায় নদীর তীরে লঞ্চটি ভেড়ানো হয়। লঞ্চ থেকে প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন যাত্রীদের অনেকে।দগ্ধ হয় শতাধিক, পুড়ে ৩৭ টি লাশ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস ইউনিট। এছাড়াও নিখোঁজ রয়েছে অনেকেই।