• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেবাচিম হাসপাতালে শুধু যন্ত্রণার চিৎকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৫, ২০২১, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ণ
শেবাচিম হাসপাতালে শুধু যন্ত্রণার চিৎকার

লঞ্চে অগ্নিকা-ে ভাইয়ের ছেলে দগ্ধ হওয়ার খবর শুনে শুক্রবার সকালে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ছুটে আসেন তার চাচা জালাল আহমেদ। বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার এ বাসিন্দাকে সার্জারি ইউনিটের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়।

advertisement
জালাল আহমেদ বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটি মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আমার ভাতিজা লোকমান হোসেন। দগ্ধ হয়ে সে এখন যন্ত্রণায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। আমরা ভয়াবহ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাই।

ভাগনে রাশেদ সর্দারের দগ্ধ হওয়ার কথা শুনে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন বরগুনার আরেক বাসিন্দা তাহেরা আক্তার। তার আর্তচিৎকারে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

advertisement
তাহেরা বেগম বলেন, ‘আমার ভাগনে রাশেদ বাবুর্চির কাজ করে সংসার চালায়। কিছুদিন আগে তার বাবা মারা যায়। বাবার চেহলামে বাড়ি এসেছিল রাশেদ। তার বড় ভাই, ভাবি ও দুই ভাতিজি, ভাতিজা ও তার মা। আজকের দুর্ঘটনায় রাশেদের ভাই ও মা বেঁচে গেলেও ভাবি ও দুই ভাতিজি, ভাতিজা আর নেই। কী বলে আমি ওদের সান্ত¡না দেব। আমি কিছু বুঝতে পারছি না।’

জালাল আহমেদ ও তাহেরা বেগমের মতো শেবাচিমে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনরা ভিড় করছেন সার্জারি বিভাগের সামনে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন অনেকে। এতে সার্জারি ইউনিটের সামনে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকা-ে দগ্ধ ৭২ যাত্রীকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে

ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে ৫০ সদস্যের একটি দল বরিশালে আসছে বলে জানিয়েছেন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে।হাসপাতালের পরিচালক জানান, চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন আমাদের বার্ন ইউনিট বন্ধ রয়েছে, তবে সার্জারি ওয়ার্ডে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, এখানে আসা বেশিরভাগ রোগীই ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ তিন শিশুসহ দশজনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাইফা নামে এক শিশু মারা গেছে।

শেবাচিমের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগুনে দগ্ধ রোগীরা বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৭২ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের দুটি ইউনিটে ৪০ জন, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ২০ জন এবং শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ৭ জন। এ ছাড়া অর্থোপেডিকস ওয়ার্ডে ৫ জন রোগি ভর্তি হয়েছেন।
সূএঃ আমাদের

হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার আবুল কালাম আজাদ জানান, বর্তমানে ৭২ জন রোগী ভর্তি। তাদের মধ্যে ৫০ জনের অবস্থা গুরুতর।

শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ৭ দগ্ধ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। তাদের বয়স ৫ থেকে ৭ বছর।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, জরুরি বিভাগে সব রোগীকে ফ্রি টিকিটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অক্সিজেন, বালিশ, বিছানা, কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্লাড ডোনেশন ক্লাবগুলোকে রক্ত সরবরাহের জন্য বলা হয়েছে।
সূত্র ঃআমাদের সময়