• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দগ্ধাবস্থায় ৪৫মিনিট সাঁতার কেটে অগ্নিপুরী থেকে বেঁচে ফিরলেন কুশল।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৬, ২০২১, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
দগ্ধাবস্থায় ৪৫মিনিট সাঁতার কেটে অগ্নিপুরী থেকে বেঁচে ফিরলেন কুশল।

সৈয়দ নূর-ই-আলমঃ

ঢাকা গ্রীন লাইফ মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র কুশল কর্মকার। ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে গ্রামের বাড়ি বেতাগীতে রওয়ানা দেন কুশল। লঞ্চে আগুন লাগার পর চোখের সসামনে মানুষ পুড়ছে, নিজের শরির আগুনের তাপে দগ্ধ হচ্ছে ঠিক তখনই জীবনে ঝুঁকি দগ্ধাবস্থায় মাঝ নদিতে ঝাপ দেন কুশল কর্মকার(২২)।

কনকনে শীতের মধ্য সুগন্ধা নদিতে একটানা ৪৫ মিনিট সাঁতার কেটে প্রাণে বেঁচে ফিরেন কুশল।

মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে আসা কুশলের বলা বর্ননায় জানা যায় অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগার মর্মন্তিক ঘটনা। তিনি জানান, মাঝরাতে হঠাৎ বিকট শব্দ, মানুষের চিৎকার ও ছোটাছুটিততে ঘুম ভাঙে তার। মুহুর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পরে পুরো লঞ্চে। চোখের সামনে অনেকের শরিরে আগুন জ্বলছিলো। অনেক মায়ের কোলে শিশু থাকায় ও সাঁতার না জানার ভয়ে লঞ্চ থেকে লাফিয়েও পরতে পারেনি। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যারা সাঁতার না জেনেও নদিতে ঝাঁপ দিয়েছে। তাদের অনেকেই পানিতে ডুবে মারা গেছে। লঞ্চটিতে ছিলোনা কোন সুরক্ষাসামগ্রী এমনকি লাইফ জ্যাকেটও না। যার ফলেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

যখন আগুনের উত্তাপে আর থাকতে পারছিলাম না তখন পোশাক খুলে ফেলে।জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাফ দেই মাঝ নদিতে এরপর একটানা ঘন্টাব্যাপী কনকনে ঠান্ডার মধ্যে নদীতে সাঁতার কাটতে থাকি। এমন সময় তেলবাহী জাহাজ যাচ্ছিল ওর পাশ থেকে। ঠান্ডায় মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিলো না। শুধু হাত দিয়ে ইশারা করি। ইশারা বুঝে জাহাজে তুলে নেয় আমায়। জাহাজের লোকজন গরম পোশাক পড়তে দেয়। উদ্ধারকর্মীরা পরে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার বাবাকে ফোনে দূর্ঘটনায় কথা জানালে। পরের দিন শুক্রবার সকালে বাবা আমায় ঝালকাঠি হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করেন।চোখে না দেখলে বলে বুঝাতে পারবো না সেদিন রাতের মৃত্যুপুরীর যন্ত্রনা। আজীবন মনে থাকবে। ঈশ্বর আমাকে বাঁচিয়েছে।’

রবিবার বিকালে কুশলের ববাবা কৃষ্ণ কর্মকার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে বাঁচিয়েছে ঈশ্বর, ঈশ্বর বাঁচালে কেউ মারতে পারে না।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রায় চারশ যাত্রী নিয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটি ঢাকা সদরঘাট থেকে ছেড়ে যায়। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পৌঁছলে রাত ৩টার দিকে এতে আগুন ধরে যায়। পরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের দিয়াকুল এলাকায় নদীর তীরে লঞ্চটি ভেড়ানো হয়। লঞ্চ থেকে প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন যাত্রীদের অনেকে।দগ্ধ হয় শতাধিক, পুড়ে ৩৭ টি লাশ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস ইউনিট। এছাড়াও নিখোঁজ রয়েছে অনেকেই।