ডেস্ক ঃ
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযান-১০ এ আগুনে দগ্ধ একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে সদর উপজেলার কিস্তাকাঠি এলাকায় বিষখালী নদী থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যদেরা। তার পেটে পোড়া দাগ ছিল বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. এস এম তাহসিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের অভিযানে আজ সকালে নাপিতের হাট সংলগ্ন বিষখালী নদী থেকে একজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের টিম। তিনি বলেন, স্থানীয়রা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও কোষ্টগার্ডকে খবর দিলে তারা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নৌ পুলিশ সুত্রে জানান, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগার ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে আজও উদ্ধার অভিযান চলছে। চতুর্থ দিনের এই অভিযানের শুরুতে আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার সকালে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। এনিয়ে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪২ জনে।
এদিকে, চতুর্থ দিনের মতো সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস এবং কোস্ট গার্ড সদস্যেরা। নিখোঁজের সন্ধানে এখনও নদীতীরে আছেন স্বজনেরা। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনের নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করবে আজ বিকেলে। সুগন্ধা নদীতীরে মিনি পার্কে তারা নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠাবে।
ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের পাশাপাশি নদী ও নদী তীরবর্তী এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরাও। প্রিয়জনের সন্ধান না পাওয়ায় নদীর তীরে অপেক্ষার প্রহর কাটছে নিখোঁজ স্বজনদের। এদিকে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত যাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি দুপুর ৩টা থেকে ঝালকাঠি ও বরগুনায় নিহতদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করবে সিআইডি।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, আরো কয়েকদিন উদ্ধার অভিযান চলবে। শনাক্তের জন্য প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাণ হারানো ৩২ জনের দাফন হয়েছে। বাকিদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে স্বজনদের কাছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমডি অভিযান-১০ লঞ্চটি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে আসার পর রাত ৩টার দিকে সেটিতে আগুন ধরে। মুহূর্তের মধ্যেই তিন তলা বিশিষ্ট লঞ্চটিতে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। ভয়াবহ আগুন থেকে বাঁচতে অনেকে নদীতে লাফ দেন। তাদের অনেকে প্রাণে রক্ষা পেলেও সাঁতার না জানা অনেকে ডুবে মারা যান। আবার অনেকের মৃত্যু হয় আগুনে পুড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের ঝালকাঠি, বরিশাল ও ঢাকায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।