বরগুনার বেতাগীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধে ধলু মৃধা (৮০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেতাগী থানা পুলিশ কৃষকের লাশ উদ্ধার করেন।
নিহত ধলু মৃধা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভোলানাথপুর গ্রামের মৃত মোজাফফর মৃধার ছেলে। এ ঘটনায় ধলু মৃধার ছেলে হাসান আহত হয়েছেন।
পরিবারের দাবি, ধলু মৃধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মরদেহের শরীরে কোনো আঘাত কিংবা ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিবারের দাবি, ধলু মৃধা তার বিরোধপূর্ণ জমিতে আমন ধান কাটতে যান। এ সময় প্রতিপক্ষরা এসে তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে এলাপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে বৃদ্ধ ধলু মৃধা। সঙ্গে সঙ্গে স্বজনরা তাকে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বজনদের জানান তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
থানা পুলিশ খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত ধলু মৃধার ছেলে মো. হাসান বলেন, আমরা আমাদের জমিতে ধান কাটতে গেলে ভোলানাথপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিক মল্লিক, রোহান, ও রিমি বেগম পূর্বশত্রুতার জেরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে প্রকাশ্যে আঘাত করে। আমার বাবা বৃদ্ধ মানুষ তাকে চেপে ধরলে শ্বাসবন্ধ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক জানান তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। এ ঘটনায় আমারও হাতে কোপ লেগে রক্তক্ষরণ হয়।
তবে এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. ফরহাদ হোসেন জানান, বৃদ্ধ ধলু মৃধা ঘটনাস্থলেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।
বেতাগী থানার ওসি মো. শাহআলম হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ হাসপাতাল থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করে থানায় এনেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
সূত্র যুগান্তর