জি.এম রিপন,বানারীপাড়া
বরিশালের বানারীপাড়ায় বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি রক্ষার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটোকের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহার মাধ্যমে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়। এসময় মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক আবু বকার সিদ্দিক তার বক্তৃতায় বলেন, বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মূল ফটোকের পশ্চিম পাশের্^ ১৯৬৬ সাল থেকে সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সকল প্রকার কার্যক্রম চলে আসছিল। তাদের ব্যবহৃত ওই সম্পত্তি থেকে সম্প্রতি সরকারী ভাবে ৮ শতাংশ সম্পত্তি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য পুরানো এই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি সরকারী ভাবে সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়ার পর অকশন পাওয়া ক্রেতা ও পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো.সুমন খান ১০/১২ জন শ্রমিক দিয়ে উক্ত ভবনটি দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙ্গার কাজ করে আসছেন। এক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পার্শ্বে সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ভাঙ্গার ফলে বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই অংশটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ছাত্রী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবীর প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উক্ত সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের স্থানে খালী থাকা প্রায় ৩ শতক সম্পত্তি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন। পরবর্তীতে এবিষয়টি নিয়ে ওই সম্পত্তির মালিক দাবিদার অনুপ কুমার মিথ্যা অপপ্রচার ও নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ করেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রয়োজনে তারা বিদ্যালয়ের সামনের খালী থাকা ওই সম্পত্তি সম্প্রতি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন। পরে ওই সম্পত্তির একাধিকজন মালিক দাবি করে আসছেন। এক্ষেত্রে তারা ওই সম্পত্তির প্রকৃত মালিক শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদেরকে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ সম্পত্তির মূল্য পরিশোধ করে ক্রয় করতে আগ্রহী বলেও তিনি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। এছাড়াও মানববন্ধন কর্মসূচির ব্যানারে ও ছাত্রীদের হাতে থাকা প্লাকার্ডে অনুপ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ¯েøাগান উল্লেখ করেন এবং তার হাত থেকে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি রক্ষার দাবী জানিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
এসময় স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক মাকছুদা বেগম, এডহক কমিটির সদস্য ও পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রেজাউর রহমান হিরণসহ সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহার মাধ্যমে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার পাশাপাশি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জকে অনুলিপি প্রদান করা হয়। এর পূর্বে একই বিষয় নিয়ে ৪ জানুয়ারী বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করেন।
প্রসঙ্গত, বানারীপাড়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে ৭১’র শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড.জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতার পৈত্রিক ভিটায় স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে নারী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে সাধারণ ও কারিগরি শাখায় ৮ শতাধিক ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছেন। এছাড়াও বিদ্যালয়টি বর্তমানে শেখ রাসেল স্কুল অব ফিউচার’র তালিকাভূক্ত হওয়ার পাশাপাশি বানারীপাড়া মহিলা কলেজে রূপান্তরের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক আবু বকার সিদ্দিক জানান।
এদিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড.জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতার পৈত্রিক ভিটায় বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হলেও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে ভিপি ‘ক’ তালিকাভূক্ত হওয়ায় (ভিপি কেস নম্বর-৩৪০/১৯৬৯) থাকার কারণে ওই সম্পত্তি বিদ্যালয়ের নামে দানপত্র দলিল নেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারের কাছ থেকে বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৭২ শতক সম্পত্তি একসনা (প্রতিবছর) লিজ নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছেন।