রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় অগ্নিদগ্ধের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে গত ২ বছরে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় অগ্নিদগ্ধ হন প্রায় ২ শতাধিক।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের বার্ন ইউনিটে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। তাদের র মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ রয়েছেন
গত ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে এখন ৪০ জন অগ্নিদগ্ধকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ২১ জন অগ্নিদগ্ধ ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের চিকিৎসকেরা জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছেন তাদের বেশির ভাগ দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁ ও পঞ্চগড় জেলা ও উপজেলার বাসিন্দা।
চিকিৎসকদের শঙ্কা শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকলে অগ্নিদদ্ধের সংখ্যা ও মৃত্যু ঘটনা বাড়বে। এই মৃত্যু রোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ হিসে তারা জানান, এ সময়ে বিশেষ করে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁ জেলায় সবচেয়ে বেশি শীত অনুভূত হয়।
গত ২ বছরে শীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জন আগুনে পোড়া ব্যক্তি মারা গেছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. আব্দুল হামিদ পলাশ বলেন, শীতের কারণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২১ জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আগুন পোহাতে গিয়ে তারা দগ্ধ হয়েছেন।
তিনি বলেন, শীতের হাত থেকে বাঁচতে আগুনের উত্তাপ নেয়ার বিষয়ে জনগণের সচেতনতা জরুরি প্রয়োজন বলে মনে করেন। কারণ উত্তাপ নিতে গিয়ে প্রতি বছরই এ অঞ্চলের মানুষ মারা যাচ্ছেন।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান, চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে রংপুর বিভাগে শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। প্রতিদিন এই অঞ্চলে তাপমাত্রা কমছে। বিভাগের তাপমাত্র ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠানামা করছে।