পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় মেম্বারের নির্দেশে সংখ্যালঘু পরিবারের ৫ জনকে কুপিয়ে-ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার আদাবাড়িয়ার মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলো, ওই এলাকার ধীরেন সরদারের স্ত্রী রিতা রানী, ধীরেনের ছেলে, দীপক সরদার ও দীপকের স্ত্রী পলি রানী, নিমাই সরদার ও নিমাই’র স্ত্রী নুপুর রানী।
এদের মধ্যে নিমাই সরদার ও রিতা রানী কে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে।
এবং দীপক সরদার সহ অন্যান্যরা বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত নিমাইয়ের ভাই হরিচাঁদ সরদার জানান, সম্প্রতি আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন শেষ হয়।
নির্বাচনে ৫ নং ওয়ার্ড থেকে মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ মেম্বার নির্বাচিত হয়।
মেম্বার হওয়ার পর থেকে কিছু সংখ্যালঘুদের উপর বিভিন্ন অনিয়ম অত্যাচার চালিয়ে আসছে জাফরউল্লাহ।
গত বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে সাতটার দিকে এলাকার রাজেশ্বর সাজ্জালের ছেলে বিধানসহ তার সহযোগীরা মেম্বার জাফরউল্লাহর নির্দেশে ভেকু দিয়ে জোরপূর্বক সংখ্যালঘু ধীরেন সরদারের জমির মাটি কেটে নিয়ে যায়।
সেখানে ধীরেন এর ছেলে নিমাই সরদার বেকুর ড্রাইভারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়।
এরই জের ধরে ,একপর্যায়ে বিধান ও তার সহযোগী বিকাশ, সুদেব, রণজিৎ হাওলাদার, রাজেশ্বর, অজ্ঞাত নামা কয়েকজন নিমাই সরদার কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টায় কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। তাকে বাঁচাতে মা রিতা রানী, স্ত্রী নুপুর রানী দীপক সরদার এবং ভাইয়ের স্ত্রী পলি রানী এবং বাবা ধীরেন সরদার আসলে তাদেরকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন বিধান সহ অন্যান্যরা।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে নিমাই ও রীতা রানীর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় ।
এদের মধ্যে নিমাইর অবস্থা আশঙ্কাজনক- তবে অবস্থার অবনতি হলে যে কোনো সময় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে আহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়।