এম ইসমাইল, ভোলা সদর।
ভোলা সদর উপজেলা থেকে হিমালয়ী গৃধিনী প্রজাতির একটি শকুন উদ্ধার করেছে বনবিভাগ।
রোববার ( ১৬ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলার সদর উপজেলা ইলিশা ইউনিয়নের গুপ্তের মুন্সি গ্রাম থেকে থেকে শকুনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
শকুনটির প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হবে বলে জানা গেছ। এর আগে গত বছরে ঐ ইউনিয়ন থেকে একাই প্রজাতির আরও একটি শকুন উদ্ধার করে বন বিভাগ।
স্থানীয় কৃষক সেলিম জানান, আমি শকুনটিকে মাঝিবাড়ি সংলগ্ন পশ্চিমের বিলে পড়ে যেতে দেখি। কাছে গিয়ে দেখে শকুনটি অনেক ক্লান্ত। পরে অসুস্থ শকুনটিকে তুলাতলি বাজারে নিয়ে যা-ই।
ভোলা বনবিভাগের বণ্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, শকুনটি উড়তে উড়তে সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের মাঝিবাড়ি সংলগ্ন পশ্চিমের বিলে পড়ে যায়। এসময় স্থানীয় কৃষক সেলিম অসুস্থ শকুনটিকে তুলাতলি বাজারে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল সেখান থেকে শকুনটি উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভোলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশু হাসপাতালে নিয়ে গেছে। সেখানে চিকিৎসার পাশাপাশি খাবার-দাবার দিয়ে সুস্থ করে শকুনটিকে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হবে বলে।
বন্যপ্রাণী গবেষক সামিউল মেহেসানিন ইমেইলের মাধ্যমে শকুটির ছবি দেখে এটিকে হিমালয়ী শকুন বা হিমালয়ান গৃধিনী বলে চিহ্নিত করেন।
তিনি বলেন, হিমালয়ী গৃধিনী প্রজাতির এই শকুনগুলো বাংলাদেশে সচারাচর দেখা যায় না। উত্তরে প্রচণ্ড শীতের কারণে হিমালয় থেকে শকুনটি খাবারের সন্ধানে ভোলায় এসেছে। এ প্রজাতির অধিকাংশ শকুন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে বেশি দেখা যায়। কিছু কিছু শকুন পথ ভুলে দক্ষিণাঞ্চলে চলে যায়। এসময় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে খাবার না পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন পর্যাপ্ত খাবার পেলে শকুনটি আবার তার আবাসস্থলে ফিরে যেতে পারবে।