• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাই বলায় সাংবাদিকের উপর ক্ষেপে গেলেন নির্বাচন কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৭, ২০২২, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
ভাই বলায় সাংবাদিকের উপর ক্ষেপে গেলেন নির্বাচন কর্মকর্তা

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ নির্বাচন কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ না ডেকে ‘ভাই’ বলে সম্মোধন করায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের উপর ক্ষেপে গেলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্বরত নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন।

জানাযায়, সোমবার (১৭ জানুয়ারী) বেলা এগারোটার দিকে রিয়াজ কাজী নামে এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় পত্রের ভুল সংশোধনের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় যান দৈনিক যুগান্তরের মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি ও মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সাদ্দাম। এ সময়ে তিনি নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেনকে ভাই বলে সম্মোধন করে সমস্যাটির সমাধানে করনীয় বিষয়ে জানতে চান। এতেই ক্ষেপে যান ওই কর্মকর্তা। তখন তিনি ওই সাংবাদিককে বলেন, আমাকে ভাই বললেন কেন? আমি আপনার কেমন ভাই? খালাতো ভাই না চাচাতো ভাই? এসব বলে তিনি ওই সাংবাদিক নেতার সাথে নানান অশোভন আচরণ করেন। পরে তিনি পরিচয় পত্রের সংশোধনের ব্যাপারে কোন কিছুই না বলে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাকে অপসারণের দাবিও জানান স্থানীয় সাংবাদিকরা।

মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে ভাই বলে সম্মোধন করায় তিনি আমার ওপর ক্ষেপে গিয়ে নানান অশোভন আচরণ করেছেন। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অশোভন আচরণের বিষয়ে মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান বলেন, আসলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজটি ঠিক করেননি। তাদের কাছে মানুষ সেবা পেতে চায়। তার আচরণে মনে হচ্ছে তিনি জনগণের কাছ থেকে শুধু স্যার সম্মোধন শুনতেই এসেছেন। তার বক্তব্য প্রত্যাহার করা উচিত।

স্যার না বলে ভাই বলায় ক্ষেপে যাওয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, আমি তাকে ভালো চিনি না। তিনি আমাকে ভাই বলে সম্মোধন করেছেন এবং রেগে রেগে কথা বলেছেন।

পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খান আবি শাহানুর খান বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি কেন এরকম অশোভন আচরণ করেছেন সেটি তার কাছে জানতে চাওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. তানিয়া ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।