সৈয়দ নূর-ই আলমঃ
বরগুনার বেতাগীতে দরপত্রের শিডিউল বিক্রির সময় ও শিডিউল জমাদানের সময় শেষ হওয়ার আগেই গোপনে পছন্দের ঠিকাদার কর্তৃক নির্মানকাজ শুরু করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের কাজ শুরু করছেন বেতাগী উপজেলার একজন ঠিকাদার যার ফলে উপজেলার অন্য ঠিকাদারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।তবে ওই ঠিকাদারের দাবি সংশ্লিষ্টরা তাকে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা যায়,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলামের স্বাক্ষরে গত ৯ জানুয়ারি (০২/২০২১-২২) নম্বর ই-টেন্ডার নোটিশ প্রচার করা হয়। নিয়মনুসরে নোটিশটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশও করা হয়। ওই নোটিশে ১ ও ২ নম্বর প্যাকেজে বিবিচিনি ইউনিয়নের বেগম লুৎফুন্নেছা মেমোরিয়াল ব্রিট স্কুলের সীমানাপ্রাচীর এবং স্কুলের ভেতরে আরসিসি রাস্তা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ লাখ টাকা। ওই দুটি প্যাকেজের শিডিউল বিক্রির শেষ সময় উল্লেখ করা হয় আজ বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত।তবে গত ১৫ দিন ধরে উপজেলার বেগম লুৎফুন্নেছা মেমোরিয়াল ব্রিট স্কুলের নির্মানকাজ চলমান রয়েছে। দরপত্র আহ্বান করার পর কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে এত বড় কাজ কীভাবে গোপনে একজন ঠিকাদার শুরু করতে পারেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বেতাগী উপজেলার একাধিক ঠিকাদার।
ই-টেন্ডার পদ্ধতি হওয়ায় সারা দেশ থেকেই অনলাইনে টেন্ডার শিডিউল ক্রয় ও জমা দেওয়ার কথা। সেই হিসাবে উপজেলার ও বাহিরের সংশ্লিষ্ট একাধিক ঠিকাদার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে স্থানীয় মো. জাকির নামের একজন ঠিকাদার হঠাৎ করেই লোকজন নিয়ে গত ১৫ দিন পূর্বেই ওই স্কুলের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। দরপত্রে অংশগ্রহণ ছাড়া এভাবে হঠাৎ করে কাজ শুরু করায় হতবাক হয়ে পড়েন অন্য ঠিকাদার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার জানান, দরপত্রের নোটিশ প্রচার করার পর দরপত্রে অংশগ্রহণ ছাড়াই কাজ শুরু করা নজিরবিহীন। প্রায় অর্ধকোটি টাকার কাজ এভাবে করার কোনো নিয়ম নেই। তারা আরও জানান, টেন্ডারে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচিত হলে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা যেমন সাশ্রয় হতো, তেমনি একজন ভালো মানের ঠিকাদারের হাতেই কাজটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, বেগম লুৎফুন্নেছা মেমোরিয়াল ব্রিট স্কুলের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। এরই মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য স্কুলের চারপাশে কলাম ঢালাই ও মাটি কাটার কাজ চলছে। সেখানে সাত-আটজন শ্রমিক কাজ করছেন। কাজের ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রমিকরা বলেন, ঠিকাদার জাকির হোসেন এ কাজ করছেন।
ঠিকাদার মো. জাকির বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাকে কাজ করতে বলেছে, তাই আমি কাজ করছি। আমি নিজেও দরপত্র ক্রয় করেছি। পরে যে কাজ পাবে, তার সঙ্গে সমন্বয় করে নিব।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ওইখানে এখন কে কাজ করে সেটা আমার দেখার বিষয় না। টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার পর আমি ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেব। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কাজ করলে সেই দায়ভার আমাদের না।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সুহৃদ সালেহীন বলেন, বিষয়টি কেবল জানলাম। খোঁজ নিয়ে জটিলতা সমাধান করা হবে।