রিয়াজুল হক সাগর,
রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ। পুরোনামমাসু রানা সাকিল। তার নেশা ও পেশা: লেখালেখি ও প্রকাশনা। যৌবনের উত্তাল দিনগুলোতে মানুষ যখন ছোটে ক্যারিয়ার গড়ার নেশায়। খুব সাধারণ পরিবারের সন্তান সাকিল মাসুদ তখন ছুটছেন ঘুমন্ত মানুষকে জাগ্রত করার প্রচেষ্টায়। বই শূন্য লাইব্রেরিতে বই দিয়ে আলোকিত করার প্রচেষ্টায়। সমাজটা যখন বিবেকশূণ্য তখন সাকিল মাসুদ তার কবিতায় তুলে ধরছেন মানবিক মূল্যবোধের চিত্র, সমাজ-সংস্কৃতি, বাস্তবতা-অবাস্তবতা, প্রেম-বিরহের বিবিধ বিষয়। ফিরেদেখা’র ত্রাণের প্যাকেট হাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগাক্রান্ত অসহায় মানুষের বাড়ির দুয়ারে দুয়ারে। মানুষ যখন মানুষকে কাঁদিয়ে নিজের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যস্ত সাকিল মাসুদ তখন হাসি ফোটানের চেষ্টা করছেন সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের মুখে।
শুধু কি তাই! রংপুর সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার শেকড় হলেও বর্তমান সব কিছুই রাজধানী কেন্দ্রীক। রংপুরের মতো ছোট শহরে বসে লেখকদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ নেই বললেই চলে। রাজধানী কেন্দ্রীক সাহিত্য চর্চাকে বিকেন্দ্রী করণের লক্ষ্যে সাকিল মাসুদ ২০১০ সালে রংপুরে চালু করেন আইডিয়া প্রকাশন নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা। ৭ বছর মাথায় ২০১৭ সালে প্রকাশনা সংস্থাটি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা লাভ করে এবং রংপুরের লেখকদের জাতীয় পর্যায়ে আত্মপ্রকাশের পথ প্রশস্ত করেন। বর্তমানে সাকিল মাসুদ দেশি বিদেশী লেখকদের ২শতাধিক গ্রন্থ প্রকাশক।
শুধু এ সবেই থেমে নেই সাকিল মাসুদ, পাড়ায় মহল্লায় গিয়ে খুঁজে বের করেন সুবিধাবঞ্চিত-এতিম শিশুদের। তাদের মুখে কীভাবে হাসি ফোটানো যায় সে চেষ্টাও করছেন বিভিন্ন দিবসে। নিজ উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালন করেন বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগাক্রান্ত মানুষের জন্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে গ্রামের পথে পথে ঘুরে কাজ করছেন ৭১’এর নির্যাতিত বীরাঙ্গনাদের নিয়ে। এ সকল কর্মকাÐ বাস্তবায়নের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন সাহিত্য সংস্কৃতি সামাজিক সংগঠন ‘ফিরেদেখা’। ফিরেদেখা শুধু সামাজিক কর্মকাÐই নয় নতুন লেখদের আশ্রয়ের কেন্দ্র বটে।
এ প্রসঙ্গে সাকিল মাসুদ জানান,
‘কময় বয়সে মনের ভেতর/অনেক রকম আশা
বাঁচতে হবে যুগান্তরের/বুকে বেঁধে বাসা’
সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা মানুষকে মনুষত্ব দান করে, জঙ্গিবাদ এবং ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে মুক্তি দেয়। একদিন রংপুরের মানুষও সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার লাভ করবেন এটাই আমার বিশ্বাস। আমি রংপুরের মাটিতে সাহিত্য-সংস্কৃতি-চর্চা, সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য একটি নির্ভযোগ্য এবং যুগউপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়তে চাই। সাহিত্য-সংস্কৃতির শুদ্ধচর্চা মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্রহণ করে বেঁচে থাকতে চাই।
সাকিল মাসুদের কর্ম জীবন শুরু হয় গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে। এ ব্যবসায় খুব অল্প সময়ে যুক্ত করেন প্রিন্টিং প্রেস। কিন্তু লেখালেখিকে পেশা ও নেশা হিসেবে গ্রহণ করার পর। কিছুটা আর্থিক ভাটা তৈরি হয় পেশা জীবনে, প্রেস বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন তিনি। তবু এই পথের অগ্রযাত্রায় থেমে নেই তিনি । এগিয়ে যেতে চান আরো অনেকদূর।
সাকিল মাসুদের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: ১. নাঙাপায়ে নূপুর-২০১৮, ২. বহানদী ঘষাপাথর-২০১৯, ৩. কাউয়্যা ফাঁন্দা-২০২০। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ: ১. ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং মজিবর রহমান (২০২১)
উল্লেখযোগ্য সম্পাদিত গ্রন্থ: ১. উত্তর সমীরণ(উত্তরাঞ্চলের নির্বাচিত কাব্য সংকলন)-২০১৮, ২. হামার অমপুরÑ নূরুল ইসলাম কাব্যবিনোদ (২০১৭)
লিটিলম্যাগ ১. *শতরঞ্জি ২. *ফিরেদেখা
সাকিল মাসুদের জন্ম: ২৯ জানুয়ারি ১৯৮৮ সালে রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে, স্থায়ী বসবাস করছেন রংপুরে। দায়িত্ব পালন করছেন ফিরেদেখা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১, রংপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়াও আরও সংগঠনের সাথে যুক্ত তিনি।
তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে দেশ এবং বিদেশের অনেকগুণিজনসহ রংপুর সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, ফিরেদেখা, মৌচাক পরিবারসহ বিভিন্ন সংগঠন।