• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে সংক্রমণ বাড়লেও মাস্ক পরায় অনীহা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৯, ২০২২, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে সংক্রমণ বাড়লেও মাস্ক পরায় অনীহা

ডেস্ক নিউজ ঃ

বরিশাল নগরীর পাইকারি খুচরা কাঁচাবাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা দেখা দিয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতার মুখে নেই মাস্ক। সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়লেও আর আগের মতো ভয় নেই বলে দাবি তাঁদের। আবার দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনেকেরই অনীহা বেড়েছে।

তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে সচেতনতা।সরেজমিনে নগরীর নথুল্লাবাদ কাঁচাবাজার,চৌমাথা কাঁচাবাজার,চকবাজার,নতুন বাজার ,সাগরদি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারে আসা শত শত ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে নেই কোনো মাস্ক। ভিড়ের মধ্যে গাদাগাদি করে চলছে কেনাবেচা।

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, নতুন করে করোনার সংক্রমণ পেলেও আগের মতো ভীতি আর কাজ করছে না। সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকা অস্বস্তিকর থাকায় ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন।

এ ছাড়া টিকা নেওয়ার কারণে ‘করোনা হলেও তেমন সমস্যা হবে না’ বিশ্বাস জন্মেছে তাঁদের মধ্যে। এতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতা।

নথুল্লাবাদ কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ কাঁচাবাজারে একটু ভিড় থাকবেই। অনেকে একসঙ্গে কেনাকাটা করতে আসেন। তবুই মানুষের মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব মানার প্রবণতা কমেছে। তা ছাড়া করোনা কমে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি অনেকে মেনে চলছেন না।

আসলে আগের মতো বর্তমানে করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় নেই।’ফিরোজ নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর থেকে এক ধরনের উদাসীনতা তৈরি হয়েছে। তাই মাস্ক পরাও হয় না। আবার যেহেতু করোনা বাড়ছে, এখন থেকে নিয়মিত মাস্ক পরতে হবে।’সবজি বিক্রেতা মো. আওলাদ বলেন, ‘গত বছর নিয়মিত মাস্ক পরতাম।

করোনা তো কমে গেছিল। টিকা নিছি। এ জন্য মাস্ক পরা বাদ দিছিলাম। বেচাকেনার সময় মাস্ক পইরা কথা বলতে সমস্যা হয়। তাই পরি নাই।’এদিকে যানবাহনেও একই অবস্থা। যানবাহনগুলোতে গাদাগাদি করে বসছেন যাত্রী। তাঁদের মুখেও মাস্ক নেই। মাস্ক পরা ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে বলে দাবি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।

গত কয়েক দিনে বরিশাল বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৩ জন। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে ভোলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৩৮ জন। আরটি-পিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ৪০ দশমিক ১৭ শতাংশ। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

অন্যদিকে বরিশাল জেলায় বেড়েছে করোনা রোগীর সংখ্যা। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের তথ্য সংরক্ষক জাকারিয়া খান স্বপন জানান, ২৪ ঘণ্টায় ২৩৪ জনের নমুনা আরটি-পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করানো হয়েছে। এরমধ্যে ৯৪ জন পজিটিভ ও ১৪০ জন করোনা নেগেটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

শনাক্তের হার ৪০ দশমিক ১৭ শতাংশ।বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলায় ২০২০ সালের ৯ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সেই থেকে ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি (শুক্রবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৪৭ হাজার ৮০১ জন।

আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৮২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪৪ হাজার ৯২৫ জন।উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোঃ জাকির হোসেন মজুমদার বলেন,সারাদেশে মহামারি করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমন বৃদ্ধি পাচ্ছে।মহামারি করোনা ভাইরাসের ওমিক্রন সংক্রমন প্রতিরোধে স্বাস্থবিধি মেনে মাস্ক পরার বিকল্প নেই।

সবাইকে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরতে হবে।সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করে দৈনন্দিন কর্মকান্ড পরিচালনা আহবান জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।