• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফলোআপ ভোলায় সন্তান না হওয়ায় স্ত্রীকে বকাঝকা, অতঃপর আত্নহত্যা, আড়াই লাখ টাকায় সমাধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩১, ২০২২, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
ফলোআপ   ভোলায় সন্তান না হওয়ায় স্ত্রীকে বকাঝকা, অতঃপর আত্নহত্যা, আড়াই লাখ টাকায় সমাধান

 

এম ইসমাইল :-

ভোলা সদর উপজেলা চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড করিম মাল বাড়ি থেকে নিঃসন্তান গৃহবধূ মুক্তা (২২) বেগমের গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা আড়াই লাখ টাকায় সমাধান করেছেন স্থানীয় (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিনসহ স্থানীয় বিচারকরা।

ঘটনার ৪ দিন পর রোববার (২৩ জানুয়ারি) উভয়পক্ষের সম্মতিতে এ সমাধান হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে নিহত গৃহবধূ মুক্তা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় স্বামী আল-আমীনের বসতঘর থেকে।

ঘটনার পর থেকে স্বামী আল-আমীন আত্নগোপনে ছিলেন। আল-আমীন ওই ওয়ার্ডের মৃত ইউছুফের ছেলে। এবং মুক্তা একই ওয়ার্ডের রফিজল হকের মেয়ে।

ঘটনার দিন মুক্তার বাবা রফিজল হক দাবি করেছিলেন, মুক্তার বিয়ের পর ৫ বছর ধরে তাঁর কোনো সন্তান হয়নি। একাধিকবার ডাক্তার কবিরাজের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। যাঁর কারনে তাঁর স্বামী তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে।

এদিকে সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে আল-আমীনের বাড়িতে গেলে আল-আমীনের মেঝো বোন রিনা (২৭) বেগম জানান, বিয়ের পর থেকে মুক্তার কোনো সন্তান হয়নি। যাঁর কারনে তাঁর ভাই আল-আমীন প্রায়ই তাকে বকাঝকা করতো। ঘটনার দিন বিকেলে আল-আমীন মুক্তাকে জানান, এতো ডাক্তার কবিরাজ দিয়ে ব্যয়বহুল টাকা খরচ করিয়েও সন্তানের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না তিনি। এবার যদি মুক্তা সন্তান জন্ম দিতে না পারে। তাহলে ঢাকা থেকে আর বাড়ি ফিরবে না সে। এনিয়ে মুক্তার সাথে ঝগড়াঝাটি হলে ঘরের সকল দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করে মুক্তা বেগম।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) মুক্তার বড় ভাই রায়হান জানান, ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান মহিউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন বিচারক আইনি পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেন তাকে। রোববার (২৩ জানুয়ারি) ঘটনাটি আড়াই লাখ টাকায় সমাধান করা হয়। এবং রোববার (৩০ জানুয়ারি) তাদেরকে সম্পূর্ণ টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। যাঁর কারনে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি তাঁরা।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, মুক্তার পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি নিহতের পরিবার।