আজ ঝালকাঠি দিবস। ৩৮ বছর আগে আজকের এইদিনে বৃহত্তর বরিশালের ঝালকাঠি মহকুমাকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠি জেলার পথচলা শুরু হয়। বর্তমানে রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও নলছিটি ও ঝালকাঠি সদর এই চারটি উপজেলা রয়েছে। এ জেলায় ঝালকাঠি ও নলছিটি দুইটি পৈরসভা আছে। ঝালকাঠি মূলত কৃষিপ্রধান জেলা। ঝালকাঠিকে একসময় দ্বিতীয় কলিকাতা বলা হতো। শিল্প, ব্যবসা-বানিজ্যের জন্য ঝালকাঠির ব্যাপক পরিচিতি ছিলো। বহুবার শিক্ষার হারে ঝালকাঠি দেশসেরা অবস্থান করে নেয়। ধর্মীয় শিক্ষার এক বাতিঘর ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা সারাদেশে সমাদ্রিত। শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, কবি কামিনী রায়, কুসুমকুমারী দাসের মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিদের জন্মস্থান ঝালকাঠিতে। এককালে গ্রামবাংলায় গুণাইবিবির পালা খুব জনপ্রিয় ছিলো, এই গুণাইবিবির পালার সূতিকাগার ছিলো ঝালকাঠির নবগ্রামে। এই জেলার তাত শিল্প আমাদের গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতির পরিচায়ক। আয়তনে দেশের অন্যতম ক্ষুদ্র এই জেলাটি আমড়া ও পেয়ারার জন্য বিখ্যাত। প্রতিবছর বরষার মৌসুমে ঝালকাঠির খালে-বিলে ভাসমান হাট বসে। দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা দেখা যায়। নায়ে ভেসে ভেসে পেয়ারার দেশে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ান। ঝালকাঠীর দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আরো রয়েছে কৃত্তিপাশা জমিদার বাড়ি, হরিণপালা ইকোপার্ক, শের-ই-বাংলার মাতুলালয়, সুগন্ধার পাড়ে মিনি পার্ক, ধানসিঁড়ি নদী ইত্যাদি। দেশের সবচেয়ে উঁচু সেতু গাবগান ব্রিজও এই ঝালকাঠি জেলায়। অনেক ছোটোবড়ো নদীর প্রবাহমানতায় টিকে থাকুক ঝালকাঠির সুখ্যাতি। ” আবার আসিবো ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে-এই বাংলায়………… ” রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দের এই আকুলতা স্বার্থক হোক!