• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোলায় আলু চাষ করে লাভমানের আশাবাদী কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২২, ১৭:১৫ অপরাহ্ণ
ভোলায় আলু চাষ করে লাভমানের   আশাবাদী  কৃষকরা

এম ইসমাইল ভোলা।

ভোলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে এ বছর ব্যাপক আলু চাষে এগিয়ে এসেছেন কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠ জুড়ে শুধু সবুজ আলু গাছের সমারোহ। আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় বিগত বছরের তুলনায় এই বছর আলুর বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষকেরা আশাবাদী।

আগামী ৪০ থেকে ৫০ দিন পরেই উৎপাদিত আলু ঘরে তুলবেন। যে কারণে আলুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আলু চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলায় অন্য বছরের মতো এবারও ব্যাপক আলু চাষ করছেন কৃষকরা।

এখানে সাধারণত ডায়মন্ড, কাডিনাল ও হাইব্রিড – এই তিনটি জাতের আলুর চাষ বেশী হয়। তবে উচ্চ ফলনের আশায় অধিকাংশ কৃষক ডায়মন্ড ও কাডিনাল জাতের বীজ বেশি রোপণ করেছেন।

এ বছর উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু চাষাবাদ হয়েছে ৪৫০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৫০ হেক্টর কম। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৮০৫০ মেট্রিক টন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের কৃষক মো. মোহাম্মদ আলী বলেন, হঠাৎ মৌসুমী বৃষ্টির কারণে আমার রোপন করা আলু সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে অনেক টাকা ক্ষতি হয়েছে এবং জমিতে পানি জমে যাওয়ায় পরে আর আলু চাষ করতে পারিনি।

পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের আলু চাষী মো. কবির বেপারী বলেন, নগদ টাকায় অন্যের জমি রেখে আলুর চাষ করি।গত বছর আলুর চাষ করে প্রায় এক লক্ষ টাকা লাভ করেছি। তাই এ বছর ২০০ শতাংশ (২০ কড়া) জমিতে ডায়মন্ড জাতের আলুর চাষ করছি । প্রতি কড়া জমিতে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচসহ প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হবে। রোগবালাই না থাকলে ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে প্রতি কড়া (৮ শতাংশ) জমিতে ৩০ মন করে আলু পাওয়ার আশাবাদী। এতে করে বেশ লাভবান হবো।

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আলুর জন্য ক্ষতিকর হলো ঘন কুয়াশা যা এখনো দেখা যায়নি। কুয়াশার কারণে নাবিধ্বষা রোগ হয়ে আলু গাছের পচন ধরে। এমন রোগ দেখা দিলে প্রতিষেধক হিসেবে ছত্রাকনাশক ঔষুধ প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শুরু থেকেই আমরা কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন মরামর্শ দিয়ে আসছি। তারাও সময়মত পরিচর্যা করায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।