প্রতিনিধি, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) ঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে পায়রা নদীর পাড়ে বন্ধুদের সাথে সেলফি তোলার পর নিখোঁজ হয় কলেজ ছাত্র অপি। নিখোঁজের ৫ দিন পর পায়রা নদীর চর থেকে উদ্ধার হয় অপি’র লাশ। কিন্তু লাশ উদ্ধারের এক মাস পেরিয়ে গেলেও উদঘাটিত হয়নি হত্যার রহস্য। এজন্য পুলিশের ধীরগতির তদন্তকে দ্বায়ী করছে নিহত অপি’র পরিবার। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শীঘ্রই ধরা হবে হত্যাকারীদের।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের দেউলি সুবিদখালী ইউনিয়নের মধ্য রানীপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল আলতাফ হোসেনের পুত্র আরিফুর রহমান অপি বরিশাল হাতেম আলী কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। গত ২৮ ডিসেম্বর বেলা ২টায় বন্ধুদের সাথে দেখা করতে বাড়ী থেকে বের হয় অপি। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে ৩০ ডিসেম্বর মির্জাগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন তার পিতা আলতাফ হোসেন। এর ৩ দিন পর ২ জানুয়ারী পটুয়াখালী সদর থানার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের চর আকবর এলাকায় পায়রা নদী থেকে প্রথম অজ্ঞাত হিসাবে অপিথর লাশ উদ্বার করে পুলিশ। পরে তার পরিবার লাশটি অপি’র বলে সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামী উল্লেখ করে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন অপি’র পিতা আলতাফ হোসেন।
অপি’র মেঝ বোন ইয়াসমিন আক্তার বলেন, অপি’র বন্ধু একই এলাকার লিমন ও সাব্বিরকে এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেই ছেড়ে দেয়। এরপর থেকেই তারা পলাতক। আমরা যথেষ্ঠ তথ্য-উপাত্ত পুলিশকে দিয়েছি। বারবার পুলিশের ধরনাও ধরেছি। কিন্তু এক মাসের বেশি সময় পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এমনকি এখনও উদঘাটিত হয়নি আমার ভাইয়ের হত্যার কারণ।
অপি’র ছোট বোন ফারজানা আক্তার বলেন, ঘটনার দিন ভাইয়া (অপি) দুপুরের খাবার তার বন্ধু লিমনের বাসায় খেয়েছে। পায়রা নদীর পাড়ে বসে লিমন, সাব্বির ও ভাইয়া(অপি) সেলফি তুলছে। সন্ধ্যায় ভাইয়া বাসায় না ফেরায় বারবার লিমনের কাছে গিয়েছি। সে বলছে, আপনারা বাড়ী যান, ও(অপি) হয়তো কোন বন্ধুর বাড়ীতে গেছে। ফিরে আসবে। যেদিন অপি’র লাশ উদ্বার হলো সেদিন থেকেই ওরা পলাতক।
একমাত্র পুত্র সন্তানকে হারিয়ে অনেকটাই বাকহীন অপি’র পিতা আলতাফ হোসেন বলেন, একটি সাদা কাগজে পুলিশকে সন্দেহভাজনদের নামের তালিকা দিয়েছি। কিন্তু ফলাফল শুন্য।
কান্না জড়িত কন্ঠে অপি’র মা মিনারা বেগম বলেন, একমাত্র পুত্রকে যারা আমার কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে আমি তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকারীদের সনাক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। ২টি টিম ঢাকায় কয়েকবার হানা দিয়েছে। আশা করি মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যেম খুব শীঘ্রই হত্যাকারীদের ধরতে পারবো।
##