আদালতের রায় অমান্য করে ইউপি চেয়ারম্যান তার সহযোগীদের মাধ্যমে এক আইনজীবীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম সাতলা গ্রামের।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে সাতলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সাতলা (আলামদী) গ্রামের মোতালেব বিশ্বাসের ছেলে ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী হুমায়ুন কবির জানান, পশ্চিম সাতলা মৌজার ১১১১/১২ দাগে এক একর ৫৩ শতক সম্পত্তি ক্রয়সূত্রে তার পিতা মালিক হয়েছেন। গত ২৫ বছর যাবত ওই সম্পত্তি তারা ভোগ দখল করে আসছেন। ২০২১ সালের ৬ ফেব্রæয়ারী পাশ্ববর্তী ২নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সাতলা গ্রামের রিন্টু হাওলাদার, মাসুদ হাওলাদার, মনির হাওলাদার চাপলুশ হাওলাদার ও সাইফুল বালী নামের ভূমিদস্যুরা ওই দাগের ৩৯ শতক সরকারী জমি দাবী করে জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ৯ ফেব্রæয়ারী বরিশাল বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে বিবাদীরা কোনকাগজপত্র দাখিল করতে না পারায় এবং উজিরপুর সহকারী কমিশনারের (ভূমি) তদন্ত প্রতিবেদন মতে মামলার বাদী মোতালেব বিশ্বাসের পক্ষে রায় ঘোষনা করেন। একইসাথে মামলার তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে বিবাদীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মামলাটি নিস্পত্তি করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত রায়ের কপি আদালতের মাধ্যমে থানায় প্রেরণ করা হয়। উক্ত রায়ের বিষয়ে উজিরপুর থানা পুলিশ বিবাদীদের অবগত করেন। পাশাপাশি রায় সম্বলিত একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
আইনজীবী হুমায়ুন কবির আরও জানান, আদালত থেকে রায় পাওয়ার পর চলতি বছরের ১০ ফেব্রæয়ারী ওই সম্পত্তিতে বসতিস্থাপন করতে গেলে সাতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার বাঁধা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে আদালতের নির্দেশনার কাগজপত্র দাখিল করা সত্বেও তিনি (ইউপি চেয়ারম্যান) তা আমলে না নিয়ে ওই সম্পত্তিতে তার সহযোগী উল্লেখিত ভূমিদস্যুদের প্রকাশ্যে দোকান নির্মানের নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশের পরেই ওই জমিতে থাকা স্থাপনা ভাংচুর করে লুট করে নেওয়া হয়। আইনজীবী হুমায়ুন কবির আদালতের নির্দেশ অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির দাবী করেন। পুরো ঘটনাটি উজিরপুর মডেল থানার ওসিকে অবগত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহিন হাওলাদার জানান, জমি দখলের ঘটনায় আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। একটি মহল আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।