মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করছে বলে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারবর্গ অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৬৯ লাখ ২৪ হাজার ৫৮৪ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। যার প্রতিটি ঘরের নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১৪ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ টাকা। দরপত্র আহ্বান করা হলে উম্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচিত হন বরগুনা জেলার বেতাগীর মেসার্স আছিয়া এন্টারপ্রাইজ। যার প্রোপাইটার মো.বেলায়েত হোসেন খোকন।
জানা যায়, গত ২৯ নভেম্বর ২০২১ তারিখ কার্যাদেশ পেয়ে ঘরের নির্মান কাজ শুরু করেন ওই ঠিকাদার। কিন্তু ঠিকাদার নির্মাণ কাজের নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের ইট, খোয়া ও স্থানীয় কাদামিশ্রিত বালু ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও নির্মাণ কাজে পরিমাণ মতো সিমেন্টও ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে জানান উপকারভোগীরা।
এসব নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করতে নিষেধ করলে দেউলি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত সেকান্দর আলী মাষ্টারের স্ত্রী মোসাঃ সামসুর নাহার বেগম ও দক্ষিণ কাকড়াবুনিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বীরঙ্গনা মোসাঃ আলেয়া বেগমের সঙ্গে ঠিকাদারের চরম বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। অবশেষে ঠিকাদার কিছু সামগ্রী সড়িয়ে ফেলে। তবে এরপরও কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন।
উপকারভোগী মোসাঃ সামসুর নাহার বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে আমরা অনেক খুশী। কিন্তু ঘর নির্মাণের শুরু থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে আসছেন। তারা আমাদের কোন কথাই শুনছেন না। নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করছেন।
উপকারভোগী মুক্তিযোদ্ধা বীরঙ্গনা মোসাঃ আলেয়া বেগম বলেন, ঘরের ইট হেরোম ভালো না, আর বালু দেছে কাদা কাদা, লাল বালু দ্যায় নায়। আর রডতো ছোয়ায়ই নাই, শুধু ল্যান্টিনে কয়ডা দেছে। সিমেন্টও ঠিকমতো দ্যায় না। আমরা নিষেধ করলেও তারা শুনছেন না। তাদের মনমতো কাজ করে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার মো.বেলায়েত হোসেন খোকন বলেন, সিডিউল মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে। তবে ভাল ইটের সাথে কিছু খারাপ ইট যেতে পারে। সেগুলো রাজ মিস্ত্রিকে ঘরে লাগাতে নিষেধ করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পটুয়াখালী অঞ্চলের বিভাগীয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান বলেন, আমি অসুস্থতার কারনে ঘরগুলো সরেজমিনে পরিদর্শণ করতে পারিনি। খুব শীঘ্রই কাজের মান পরিদর্শণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ তানিয়া ফেরদৌস যুগান্তরকে বলেন, বীর নিবাস নির্মাণে একটি ঘরে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে সেটি সমাধান করে দিয়েছি। অন্য কোনো ঘরে এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
#