মোঃ আবদুর রহিম সজল, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। সরকারি- বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ এবং কিন্ডারগার্টেন মিলে ২৪১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৫ টিতেই স্থায়ী শহীদ মিনার নাই।
ফলে ২১শে ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবসের তাৎপর্য, ইতিহাস এবং এর গুরুত্ব সর্ম্পকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। একদিকে সরকারি তহবিলের অভাব অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির অবহেলার কারনে এসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা যায়, উপজেলা শহরের কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দিবসটি পালন করলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে কলাগাছ, বাঁশ, কাগজ ও কাদাঁমাটি দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরী করে পালন করে আসছে শহীদ দিবস। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালনই করা হয় না।
উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১৪২ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩২ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৯টি মাদ্রাসা এবং ৭টি কলেজ মিলে ২১০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ৩১ কিন্ডারগার্টেন স্কুল। এর মধ্যে ৬টি কলেজ, ১০২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ০৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৩০টি মাদ্রাসা ও ৩১ টি কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে একটিতেও স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নাই।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুঃ জাহিদ উদ্দিন বলেন, শহীদ মিনারের জন্য সরকারি কোন বরাদ্ধ না থাকায় সকল প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরী করা সম্ভব হয়নি। তবে নিজ উদ্যোগে অনেক প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনার নিমার্ণ করছে। সরকারি বরাদ্দ পেলে সকল প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আর্ন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবসসহ সকল জাতীয় দিবস অতি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। সেই লক্ষ্যে অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ই নিজেদের উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ করেছেন। তবে একটি মাদ্রাসায়ও শহীদ মিনার নাই। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই তাদেরকে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাঃ তানিয়া ফেরদৌস বলেন, এবিষয়ে পূর্বে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।