ইনজামুল সাফিন
আজ ৮ ফাল্গুন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১ ফেব্রয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ। ৭০ বছর আগে আজকের এই দিনে ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিলেন বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা। ওই দিন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে রাজপথে আন্দোলনরত অবস্থায় শহিদ হন রফিক, শফিক, সালাম, জব্বার, বরকত, শফিউল প্রমুখ। এর পিছনে আছে অনেক ইতিহাস। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভালো দেশ ভাগ হয়। পূর্ব ও পশ্চিম দুটি অংশ নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তানের ৫৬ ভাগ লোকের মাতৃভাষা ছিলো বাংলা, যেখানে ৬% লোকের মাতৃভাষা ছিলো উর্দু। পাকিস্তানের মাতৃভাষা কি হবে এ নিয়ে একটা জটিলতা তৈরি হয়। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে মাতৃভাষা করার পরিকল্পনা করেন৷ বাংলা ভাষাভাষীর চেয়েছিলো বাংলাও পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হোক। ১৯৪৭ সালে করাচীতে জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ফজলুল রহমান মালিক উর্দুকে শিক্ষার ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। পাকিস্তানের ডাকটিকিট থেকেও বাংলার ব্যবহার উঠিয়ে দেয়া হয়। এরকম বিভিন্ন কার্যক্রম বাঙালিরা মেনে নিতে পারেননি। বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে সংগঠওত হয় তমুদ্দিন মজলিস। সংগটনটি “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? বাংলা নাকি উর্দু?” শীর্ষক একটি পাস্তক বের করে। ১৯৪৮ সালে কুমিল্লার নির্বাচিত আইন প্রণেতা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবী তোলেন। ঢাকায় এক জনসভায় পাকিস্তানের জাতির জনক মোহম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দেন ” Uddu & only uddu shall be state language of Pakistan “। এর প্রতিবাদে ফেটে পড়ে বাংলা মাতৃকার সন্তানরা। আন্দোলন গতি পায়। ১৯৫২ সালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী আবার একই সুর টানলে এবারও আপামর জনতা আন্দোলিত হয়। ১৪৪ (একশ’ চুয়াল্লিশ) ধারা জারী করা হয়। ছাত্র জনতা প্রত্যাখ্যান করে। ২১ ফেব্রয়ারি রাজপথে মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। এভাবেই ভাষার জন্য জীবন দেয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়।
২৩ ফেব্রয়ারি ১৯৫২ প্রথম শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়। পুলিশ ভেঙে দেয়। পরবর্তিতে আবার গড়া হয়। ১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। কানাডাপ্রবাসী বাঙালী রফিক ও শফিকের উদ্যোগে দিনটির আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতির বিষয়ে জনমত গঠন শুরু হয়। এক পর্যায়ে ইউনেস্কো কতৃক রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রস্তাব দেয়ার জন্য বলা হয়। সরকার দ্বিধা করেনি। ১৯৯৯ সালের ২৭ নভেম্বর দিনটিকে (২১ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। সেই থেকে প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।