মোঃ আশিকুর রহমান
ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারী কলেজ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটি একসময় ছিল অমর একুশে পালনের কেন্দ্র বিন্দু। সুবিধাজনক স্থানে পুষ্পস্তবক স্থাপন করতে চলত নানা রকম প্রতিযোগিতা। শহিদ মিনার চত্তরে কোন প্রতিষ্ঠান বা স্কুল আগে প্রবেশ করবে তা নির্ভর করত চত্ত্বরে আগমনের সময়ে উপর। বেলা বাড়ার সাথে সাথে অমর একুশের চিরন্তন সংগীত আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো গানের সাথে তাল মিলিয়ে মুখরিত হত চারদিক। দেখে মনে হত, ভাষা প্রেমীদের মিলন মেলা।
কিন্তু এবারের চিত্র সম্পুর্ণ ভিন্ন। নেই আগের মত কোলাহল। শহিদ মিনার চত্ত্বরটি একেবারে ফাঁকা। নেই কোন পুলিশ বা স্বেচ্ছাসেবক। শহিদ মিনার চত্ত্বরে প্রবেশ করতেই গেটের দু ধারে প্রস্রাবের দুর্গন্ধ, ময়লা আবর্জনা। শহিদ মিনারটি কেন যেন নিষ্প্রাণ। গতকাল ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ শহিদ বেদীতে নেই কোন পুষ্পস্তবক। দু এক জায়গায় ফুলের ছেড়া ছিটা অংশ ও পুষ্পস্তবকের ভাঙ্গা বেরি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
শহিদ মিনার চত্ত্বরে অবস্থানরত কয়েকজন হকার বলেন, হাতে গোনা দু একটি পুষ্পস্তবক দেয়া হয়েছিল। চৌকদার ছিল কিছুক্ষণ। চৌকিদার চলে যাওয়ার পর পোলাপান ফুলের বেরি নিয়ে গেছে।
আব্দুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ফুলবাড়ীর ইতিহাসে শহিদ মিনারের জরাজীর্ণ অবস্থা এবারই প্রথম দেখলাম। শহিদ মিনার অনেক থাকতে পারে তবে কোনটারও গুরুত্ব কম নয়।
কয়েকজন অভিভাবক বলেন, উপজেলা চত্ত্বরে আরেকটি শহিদ মিনার স্থাপিত হওয়ায় এ শহিদ মিনারটি গুরুত্ব হারিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, ‘সরকারী কলেজ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটি ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের। এটি রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করতে সরকারী কলেজ কিংবা ফুলবাড়ী পৌরসভা কেউ এগিয়ে আসেনা। বাধ্য হয়ে আমরা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে নতুন ভাবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার গড়েছি। গত বিজয় দিবসে এটি উদ্বোধনও করা হয়েছে।’
সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব চলতে থাকলে ঐতিহ্যবাহী শহিদ মিনারটি মাদক সেবিদের আখড়ায় পরিণত হবে বলে মনে করেন ফুলবাড়ীর সচেতন মহল।