রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয় এবং জামায়াতের বড় বড় নেতারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে সাজাপ্রাপ্ত হলে দলীয় কাজে দেখা দেয় সমস্যা । অনেক দিন নিরব দলটির নেতাকর্মীসহ জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের নেতাকর্মীরা হঠাৎ বের হতে শুরু করেছে রংপুরে। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।
জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নতুন জারি করা অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ-২০২২ বাতিলসহ সকল মাদকদ্রব্য ক্রয় ও বিক্রি বন্ধের দাবিতে বুধবার রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর শাখা। এর আগে একই দাবিতে মঙ্গলবার ইসলামি ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা মিছিল এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এই সময় তাদের ‘মাদক ক্রয়-বিক্রি বন্ধ কর, করতে হবে’ সংবলিত লেখা ফেস্টুন হাত উঁচু করে প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
মিছিলের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের পেজে ছড়িয়ে দিলে তাতে দেখা যায়, জামায়াতের নেতারা বলেন,সরকার জাতিকে মাদকাসক্ত, মূল্যবোধহীন ও মেধাশূন্য জাতিতে পরিণত করার আত্মঘাতী খেলায় মেতে উঠেছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় দেশে পরিকল্পিতভাবে মাদকের বিস্তার, রাষ্ট্রীয় সম্পদের লাগামহীন লুটপাট ও অশ্লীলতাসহ যেনা-ব্যভিচারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। দিনের বেলা প্রকাশ্যে জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবির মঙ্গলবার এবং আগের দিন জামায়াত নগরীর রাস্তায় নামলেও পুলিশের ভূমিকা ছিলো নিস্ক্রিয়। পুলিশ বলছে, শিবিরের মিছিলের বিষয়টি তারা জানতো না। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।বিভিন্ন মহল থেকে যুদ্ধাপরাধের কারণে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি উঠলেও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর রশিদ জামায়াত-শিবিরের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন করা মাত্রই কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে কথা বলতে বলেন ।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউর রহমান সাফি বলেন, এরা স্বাধীনতা বিরোধী, দেশের চরম শত্রু। চোরের মতো সকালে মিছিল কেন? তারা প্রকাশ্যে আসুক মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিহত করবে। তারা নিজেদের সংগঠিত করে আবারও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে এবং তারা জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।