• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২২, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ণ
ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ

ইমরান হোসাইন, ফুলবাড়ী (‌দিনাজপুর) প্র‌তি‌নি‌ধি:-

“একদাম ৩০০টাকা। ২৯৯টাকা‌তেও দেওয়া হ‌বেনা প্রশংসাপত্র। নি‌লে নাও, না হ‌লে যাও।” দিনাজপু‌রের ফ‌ুলবাড়ী উপ‌জেলাধীন ফুলবাড়ী পাইলট বা‌লিকা উচ্চ বিদ্যাল‌য়ে এভা‌বেই যেন প্রশংসাপ‌ত্রের দোকান নি‌য়ে ব‌সে‌ছেন প্রধান শিক্ষক আবুল হো‌সেন ও অ‌ফিস সহকারি গৌতম রায়। প্রশংসাপ‌ত্রের জন্য নির্দিষ্ট কোন ফি না থাক‌লেও উন্নয়‌নের না‌মে নেয়া হ‌চ্ছে অ‌তি‌রিক্ত অর্থ।

বুধবার দুপু‌রে উক্ত বিদ্যাল‌য়ে স‌রেজমি‌নে গি‌য়ে দেখা যায়, সদ্য এসএস‌সি পাশ করা একদল শিক্ষার্থী বি‌ক্ষোভ মানববন্ধন কর‌ছেন। তা‌দের অ‌ভি‌যোগ বিদ্যাল‌য়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হো‌সেন ও অ‌ফিস সহকা‌রি গৌতম রায় উন্নয়‌ন ফি বাবদ ৩০০টাকা ছাড়া দি‌চ্ছেন না প্রশংসাপত্র। অ‌নে‌কের সামর্থ্য না থাকায় টাকা কমা‌নোর অনু‌রোধ কর‌লেও কর্ণপাত ক‌রেন‌নি প্রধান শিক্ষক ও গৌতম রায় বরং চরম দুর্ব্যবহা‌রের শিকার হ‌য়ে‌ছেন ছাত্রীরা।

‌বিদ্যাল‌য়ের স্টু‌ডেন্ট কে‌বি‌নেট নেত্রী শান্তা আক্তার ব‌লেন, ফুলবাড়ী পাইলট বা‌লিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএস‌সি পা‌শের প্রশংসাপত্র প্রদানে নিয়ম ব‌হির্ভূত ৩০০টাকা আদায় কর‌ছে। আমা‌দের অ‌নে‌কের এ টাকা দেয়ার সামর্থ্য নেই। ‌কিন্তু প্রধান শিক্ষক ২৯৯টাকা‌তেও প্রশংসাপত্র দি‌বেন না ব‌লে সাফ জা‌নি‌য়ে দি‌য়ে‌ছেন।
নাস‌রিন আক্তার না‌মের আ‌রেক শিক্ষার্থী ব‌লেন, শেখ হা‌সিনা এত উন্নয়ন কর‌ছে- বিদ্যাল‌য়ের বহুতল ভবন ক‌রে দি‌চ্ছে, তারপরও উন্নয়‌নের না‌মে আমা‌দের‌ মত গ‌রিব অসহায়দের‌কে ৩০০টাকা দি‌তে হ‌বে কেন!
মোছা. নুপুর আক্তার ব‌লেন, দুদিন ঘু‌রেও টাকা ছাড়া প্রশংসাপত্র না পে‌য়ে বাধ্য হ‌য়ে তিনশত টাকা দি‌য়ে‌ছি।

অ‌র্পিতা মহন্ত ব‌লেন, ফরম পূর‌ণের সময় একবার উন্নয়ন ফি দি‌য়ে‌ছি। এখন প্রশংসাপত্র নি‌তেও উন্নয়ন ফি দি‌তে হ‌বে। পরবর্তী‌তে সনদপত্র নি‌তে আস‌লেও উন্নয়ন ফি চাই‌বে। এত উন্নয়ন আমরা কি কর‌বো!
মোছা. হা‌বিবা, দিশা সরকার, শিউলী, ফা‌তেমা খাতুন সহ অ‌নে‌কেই ব‌লেন, “একদাম ৩০০টাকা। ২৯৯টাকা‌তেও দেওয়া হ‌বেনা প্রশংসাপত্র। নি‌লে নাও, না হ‌লে যাও- প্রধান শিক্ষক ও অ‌ফিস সহকা‌রির এমন কথায় আমরা মর্মাহত হ‌য়ে‌ছি। ম‌নে হ‌য়ে‌ছে এটা স্কুল নয় যেন ব্যবসা প্র‌তিষ্ঠান।

এ‌বিষ‌য়ে প্রধান শিক্ষক আবুল হো‌সেন টাকা আদা‌য়ের কথা স্বীকার ক‌রে ব‌লেন, আমরা র‌শিদ দি‌য়ে উন্নয়ন ফি বাবদ ৩০০ টাকা নি‌চ্ছি। ক‌মি‌টির মি‌টিং‌য়ে এটা রেজু‌লেশন করা হ‌য়ে‌ছে বল‌লেও কোন রেজু‌লেশন দেখা‌তে পা‌রেন‌নি তি‌নি।

বিদ্যালয় মা‌নে‌জিং ক‌মি‌টির সভাপতি উপ‌জেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন ব‌লেন, ‘উন্নয়ন ফি আদা‌য়ের ব্যাপা‌রে মি‌টিং বা রেজু‌লেশন হয়‌নি। টাকা আদায়ের বিষ‌য়ে আমার জানা নেই। খোঁজ নি‌য়ে প‌রে জানা‌তে পার‌বো।’

এ‌বিষ‌য়ে জান‌তে উপ‌জেলা মাধ্য‌মিক শিক্ষা অ‌ফিসার সম‌শের আলী মন্ড‌লের মু‌ঠোফো‌নে কল করা হ‌লেও তি‌নি রি‌সিভ ক‌রেন‌নি।

উ‌ল্লেখ্য, ফুলবাড়ী পাইলট বা‌লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবছর মান‌বিক, বিজ্ঞান ও কা‌রিগ‌রি শাখায় প্রায় একশত বা‌লিকা এসএস‌সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হ‌য়ে‌ছে। কিন্তু নিয়মব‌হির্ভূত অর্থ আদায় বন্ধ না হ‌লে প্র‌তিষ্ঠন‌টির সুনাম ক্ষুন্ন হ‌বে ব‌লছেন অ‌ভিভাবক মহল।