স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি কার্যকর এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা চতুর্থ দিনের মতো লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
আজ রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকেই বিশ্বব্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সমানে অবস্থা নিয়ে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। বিচারের দাবীদে শ্লোগানে শ্লোগানে কম্পিত হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়। এসময় ধর্ষণের প্রতিবাদে বিভিন্ন ধরনের লেখা প্লাকার্ড প্রদর্শন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
পরে সকাল ১০টায় সাংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী ঘোষনা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন মুখপাত্র পিউ মৃধা।
তিনি বলেন, আমাদের এক শিক্ষার্থী গণধর্ষণ হলে বিচারের দাবীতে আমরা আন্দোলন (২৪ ফেব্রুয়ারী ভোর থেকে) শুরু করি। আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপর বহিরাগতরা হামলা চালায়। এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আহত হন। কিন্তু এখন পযর্ন্ত হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। আমরা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবী জানাই।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের উপর থেকে আমরা আস্থা হারিয়েছি। আমরা এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখি। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাস পেলে আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে আমরা ক্লাশে ফিরে যাবো।
পরে তিনি পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করেন। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে দুপুর ১২টায় ধর্ষকদের প্রতিকী ফাঁসি কায্যকর ও বিক্ষোভ মিছিল, বিকাল ৪টায় ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদী নাটক ও সন্ধ্যা ৭টায় আলোর মিছিল। #
এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, যে সকল ধর্ষক ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর করা, আন্দোলনকারী ছাত্র শিক্ষকদের ওপর বহিরাগতদের হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, হলের বাইরে যে সকল শিক্ষার্থীরা অবস্থান করে তাদের সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ এবং মন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দাবিদাওয়া তুলে ধরা ও প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা ক্লাস এবং পরীক্ষার হলে ফিরে যাবেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে শহরের নবীনবাগ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্ষনের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। #