মোঃআশিকুর রহমান
ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
অনুকুল আবহাওয়া ও পরিমিত বৃষ্টিপাতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কম খরচে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রধান ফসল ধান হলেও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে ভুট্টা চাষের প্রবণতা।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ব্যাপক হারে বাড়ছে ভুট্টার চাষ। সম্প্রতি বছর গুলোতে ইরি-বোরো ধানের মৌসুমে স্থানীয় চাষীরা ধানের নায্য মূল্য না পাওয়ায় এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়া ভুট্টা চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য ফসলের চেয়ে ভুট্টার ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ধান, গমের পাশাপশি ভুট্টা চাষে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে আগাম জাতের ভুট্টা রোপণ করায় নিবিড় পরিচর্যা আর রোগ বালাই কম হওয়ার কারনে ফুলবাড়ীতে চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের তিলাইনদী ও ছোট যমুনার তীরবর্তী এলাকাগুলোতে শোভা পাচ্ছে ভুট্টার লাল সাদা শীষ। উঁচু নিচু দোলা জমিতে লাগানো ভুট্টার আবাদ থরে থরে সাজানো। দৃষ্টি দন্দন ভুট্টা ক্ষেত দেখতে অনেকটা চা বাগানের মত।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের মিজানুর রহমান বলেন, উৎপাদন খরচ কম কিন্তু গো-খাদ্য হিসেবে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই গম বা সরিষার পরিবর্তে ভুট্টা চাষ করেছি।
একই এলাকার নুরুজ্জামান বলেন, ভুট্টা চাষে মাত্র ৪/৫ টি সেচ দিতে হয়। এবার বৃষ্টিপাত হওয়ায় ২/৩টি সেচ দিতে হবে। ফলে এবার বাম্পার ফলন ও লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর ভুট্টার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমি যা গতবছর ছিল ৩হাজার ৩০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ৯৮০জন কৃষককে মোট ভুট্টা বীজ ১৯৬০কেজি, ড্যাব ১৯,৬০০কেজি, এমওপি ৯,৮০০কেজি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রাখায় ভুট্টার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকদের।