কামরুল সিকদার চরফ্যাশন (ভোলা)প্রতিনিধিঃ
প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের অফিস সহায়ক জহিরুল ইসলাম যখন পশু চিকিৎসক।তিনি এখন অফিস সহায়ক এর পরিবর্তে মাঠে ময়দানে করছে ডাক্তারি। গ্রামের লোকেরাও এখন পশু ডাক্তার হিসেবে চেনে। অধিক পরিচিতির জন্য ভিজিটিং কার্ডেও অফিস সহায়ক লিখে গরু-ছাগল হাস-মুরগীর ছবি সম্বলিত ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে গ্রাম গঞ্জের সহজ-সরল কৃষকের হাতে হাতে পৌঁছে দেন। তার অপচিকিৎসা চলছে দীর্ঘ বছর। ডাক্তারের দৌরাত্ম্যের লাগাম টেনে ধরার মত যেন কেউ নেই। কথায় আছে দশ দিন চোরের একদিন গৃহস্থের।
জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের অফিস সহায়ক জহিরুল ইসলাম গরু-মহিষ, ছাগল, হাস-মুরগির ছবি দিয়ে ভিজিডিং কার্ড করে পুরো উপজেলা পশু চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার চরফ্যাশন উপজেলা পূর্ব মাদ্রাজ ৭নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক আকতার হোসেন তার পাশের বাড়ির গরু চিকিৎসা করার সংবাদ শুনে ওই বাড়িতে গিয়ে পশু ডাক্তারের নম্বর সংগ্রহ করে মোবাইলে কল করেন। জহিরুল কে পশু ডাক্তার স্যার বললে তিনি বলে, আমি পশু চিকিৎসক ডাঃ জহিরুল ইসলাম বলছি।
আকতার জানান,কল করে তাকে আমার ৩টি গরু মোটাতাজা করণের জন্য আমার বাড়ি নিয়ে আসি। ৩টি গরুকে চিকিৎসা দিতে তার সাথে ৬ হাজার টাকা চুক্তিবদ্ধ হই। চুক্তি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভোরে ব্যাগ থেকে বড় একটি ওষুধের বোতল বের করে ডাঃ জহিরুল ইসলাম প্রত্যেকটি গরুকে ৭টি করে ইনজেকশন দেয়। কৃষক আকতার চুক্তি অনুযায়ী নগদ ৩হাজার টাকা তাকে দিয়ে দেয়। ঐদিন সন্ধ্যা হলেই গরুগুলোর পেট ফুলে শ্বাস কষ্ট দেখা দেয়। মুখ দিয়ে বেড় হতে থাকে লালা।বিষয়টি জানাতে ডাক্তার জহিরকে কল করলে তিনি বলেন গরুর মালিক কে পাউডার খাওয়াতে বলেন। পরদিন আসবে বলেই ফোন কেটে দেয়।
গত শুক্রবার(৪মার্চ)আসর বাদ পশু চিকিৎসক ডাঃ জহিরুল ইসলাম দ্বিতীয়বার তার বাড়ি যায়। তার উপস্থিতিতে ৩টি গরুর মধ্যে একটি গরু দাপিয়ে দাপিয়ে মারা যায়। যার মূল্য প্রায় লক্ষাধিক টাকা। অন্য দুটি গরুকে চিকিৎসা না দিয়ে পিছু হাটতে হাটতে তার হোন্ডা যোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পেছন থেকে যত ডাকা ডাকি করেন কথা না শুনে সে সটকে পড়েন ।
এদিকে গরু মালিক হতাশ হয়ে পড়লে স্থানীরা ছুটে এসে ওয়ার্ড ইউপি সদস্যকে খরব দেন। ইউপি সদস্য জাকির হোসেন ওই পশু চিকিৎসক ডাঃ জহিরুল ইসলামে ভিজিডিং কার্ডের নম্বর দিয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন,বাকি গরুগুলো ভাল থাকার জন্য আমি আরো বড় পশু চিকিৎসক পাঠাইতেছি বলে ফোন কেটে দেন।
মেম্বার জাকির এই প্রতিনিধিকে বলেন, জহিরুল ইসলাম আসলে পশু চিকিৎসক নয়। সে চরফ্যাশন প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের অফিস সহায়ক(পিওন)। ভুয়া ডাক্তার সেজে,হাসপাতাল থেকে সরকারি ওষধ চুরি করে উপজেলা গ্রামে ঘুরে গরুর,ছাগল, হাঁস মুরগির চিকিৎসা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বর্তমানে সে প্রায় কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
এব্যাপারের অভিযুক্ত পশু চিকিৎসক ডাঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, ভাই আমি তো পশু ডাক্তার নই। আমি অফিস সহায়ক। এরপরও আমি কিছু অসহায় লোক অনুরোধ করলে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। ঘটনার দিন গরুর মালিক আমাকে অনুনয়-বিনয় করে এমনকি আমার স্ত্রীকে বলে আমাকে চিকিৎসা করাতে নেয়। তাই আমি চিকিৎসা করেছি। এমনটি হবে আমি কখনো ভাবিনি। তবে আমার মনে হয় গরুটির ওষুধ খাওয়ানোর সময় শ্বাসনালীতে ওষুধ প্রবেশ করায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে।
চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা—–বলেন,অফিস সহায়ক জহিরুল ইসলাম তো গরুর চিকিৎসা দিতে পারেনা। আমি ঘটনাটি জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।