• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতে তিনমাস ধরে কারাবন্দী কলাপাড়ার ১৫ জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ৭, ২০২২, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ণ
ভারতে তিনমাস ধরে কারাবন্দী কলাপাড়ার ১৫ জেলে

গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকারে গিয়ে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে পথ হারায় দেশের সর্বদক্ষিণের মৎস্য কেন্দ্র আলীপুর বন্দরের এফবি তানজিলা ও এফবি তাহিরা নামের দুটি মাছধরা ট্রলার।

পথ ভুলে ভারতীয় জল সীমনায় প্রবেশের পর ওই দুই ট্রলারে থাকা ১৫ জেলে ও ট্রলারসহ আটক করে ভারতীয় কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে ভারতীয় আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে কারাবন্দী এসব জেলেদের আজও পর্যন্ত মুক্তি মেলেনি। ফলে সংসারের উপর্জনক্ষম মানুষগুলো দেশের বাইরে বন্দীদশায় থাকায় দেশে জেলে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে দুঃখ দুর্দশার খড়গ। কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন যাপন। অনেকেই অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। তবুও চাইছেন পরিবারে প্রিয় মানুষটির মুক্তি। ভারতীয় কারাগারে বন্দী এসব জেলেরা কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউপির বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, ভারতীয় জেলে বন্দীদশায় থাকা স্বজনদের ফিরে পেতে পরিবারের সদস্যদের করুন বিলাপ। কারাবন্দী জেলে নাঈমের স্ত্রী আনিকা কান্নজড়িত কণ্ঠে জানান, বিয়ের ১৫ দিন পর আমার স্বামী সাগরে গিয়ে পথ হারিয়ে ভারতের জেলে আটকা পড়ে আছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ তাকে দেশে ফিরিয়ে আনুন। আমার স্বামী কোনো অপরাধ করে নি।

এদিকে জেলেদের ফিরিয়ে আনতে অধিকতর চেষ্টা অব্যাহত রাখলেও কোনো উপায় পাচ্ছেন না ট্রলার মালিকরা । তারা বলছেন সংশ্লিষ্ট হাই কমিশনের দায়িত্বে নিযুক্ত ব্যক্তিদের তদারকি ছাড়া কারাবন্দী জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

এফবি তাহিরা ট্রলারের মালিক শাহজাহান ফকির জানান, আমাদের ট্রলার ও জেলেরা আটক হওয়ার পর থেকে আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে ঘুরে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। স্থানীয় চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে হাইকমিশন পর্যন্ত যোগাযোগ করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

এফবি তানজিলা ট্রলারের মালিক পান্না মিয়া বলেন, আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস্য এবং সম্বল ওই ট্রলার। এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ওই ট্রলারে আমার ছেলে নাঈম ছিলো তাকেও আটক করে জেলে দেয়া হয়েছে। ঐ সময় ভারতীয় উকিলের মাধ্যমে আমার ছেলে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর আর কথা বলতে পারিনি।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় করেছি। তবুও কোনো উপায় হয়নি বলে তিনি কান্না জুড়ে দেন।

আলীপুর মৎস্য আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি ও লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ভারতের জেলে বন্দী জেলেদের ফিরিয়ে আনা জরুরি, কারণ ঐ সব জেলে পরিবার এখন নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছে। তাদের ভরণ পোষণ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। অপরদিকে যাদের ট্রলার তারাও জালপালা হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহীদুল হক বলেন, এ বিষয়টি অবগত নই। তবে এখন জানার পর থেকে খোঁজ নিয়ে দেখবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।