স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সিতাইকুন্ডু গ্রামের নাজমা বেগম। কোলে রয়েছে ৪ মাসের পুত্র সন্তান হয়েছে। আমার মাতৃ দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে একাধিকবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য এসেছি। তবে এখানে কোন ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার না থাকার কারণে আমি আমার শিশুকে দুধ পান করাতে পারিনি। এতে আমার শিশু ক্ষুধায় কষ্ট পেয়েছে।
তবে এখন হাসপাতালটিতে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার হওয়া আমার মতো অনেক প্রসূতি মায়েরা এখন তাদের শিশুদের দুধ পান করাতে পারবেন এতে শিশুরা এখন আর কস্ট পাবে না। এমন কথাইগুলো বলছিলেন হাসপাতালে আসা এই মা।
প্রসূতি মা ও তাদের শিশুদের কষ্টের কথা বিবেচনায় এনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জ্ঞানের আলো পাঠাগারের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার উদ্বোধন করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (০৮ মার্চ) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারটির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ।
এ সময় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাওন শিকদার টুটু, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লক্ষ্মী সরকার, আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফেজা বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়া, জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মন্ডল, নির্মল সেন স্কুল এন্ড মহিলা কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি রতন সেন কংকন, প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান বুলুসহ প্রসূতি মায়েরা উপস্থিত ছিলেন।
এ কর্ণারটিতে গরম থেকে রক্ষা পেতে বসানো হয়েছে ফ্যান। সাথে আছে লাইটেরও ব্যবস্থা। দেয়া হয়েছে চেয়ার টেবিলও দেওয়া হয়েছে। যেখানে একসাথে ৫ থেকে ৭ জন মা তাদের বাচ্চাদের মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারবেন।
কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে আসা তারাশী গ্রামের শাফিয়া বেগম (২৫) ও বাগান উত্তরপাড় গ্রামের সুমি গাইন (২২) বলেন, হাসপাতালে অনেক লোকের ভীড় হয়। এখানে আসার পর বাচ্চা বুকের দুধ খাওয়ার জন্য কান্না করলেও লজ্জায় দিতে পারি না। তবে এখানে কর্ণারটি করায় এখন বাচ্চাকে ঠিক মত দুধ খাওয়াতে পারবো।
একই উপজেলার সিকটিবাড়ী গ্রামের অন্তরা মধু (৩০) ও গচাপাড়া গ্রামের লামিয়া বেগম (২০) বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে বুকের বাচ্চা দুধ খাওয়ার কাঁদলে প্রায়ই সময় দেয়াল ঘেসে বা কোন গাছের আড়ালে গিয়ে বাচ্চাকে দুধ পান করাতে হয়। যা নিয়ে আমাদের বিব্রত ও আতঙ্কিত থাকতে হতো। তবে এখন আর থাকতে হবে না। ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণারে বসে বাচ্চাকে দুধ পান করাতে পারবো।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাওন শিকদার টুটু বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জ্ঞানের আলো পাঠাগার নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলায় একটি ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করেছেন। এ জন্য আমরা আনন্দিত। কেননা আগে যেসব মায়েরা তাদের দুগ্ধপোষ্য শিশুদের নিয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে আসতেন তারা লজ্জায় তাদের শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান করাতেন না। এখন এখানে এই ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারটি স্থাপনের কারণে প্রসূতি মায়েরা নিরাপদে তাদের শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারবেন। মাতৃদুগ্ধ পানের মাধ্যমে শিশুদের যেমন শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে তেমনি মা ও শিশুর মাঝে আত্মীক বন্ধন সৃষ্টি হয়।
জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মন্ডল বলেন, হাসপাতালে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার না থাকার কারণে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক প্রসূতি মায়েরা তাদের শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারতেন না। বিষয়টি আমরা জানার পরে আমাদের ফেসবুক পেইজে পোস্ট দেই। এই পোস্ট দেখে কয়েকজন মানবিক মানুষ আমাদেরকে অর্থ সহায়তা করেন। সেই অর্থ দিয়ে আমরা এই ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারটি স্থাপন করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, দেশের উন্নয়নে পুরুষদের পাশাপাশি নারীর অগ্রযাত্রাকেও কাজে লাগাতে হবে। সে লক্ষে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের অগ্রযাত্রায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরণের সংগঠন নারী উন্নয়নে কাজ করছেন। এমনই একটি সংগঠন জ্ঞানের আলো পাঠাগার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যে কাজটি করেছেন তা সত্যিই প্রশাংসার দাবী রাখে। #