ডেস্ক নিউজ ঃ
বরিশাল সিটির ২৮ নং ওয়ার্ড কাশিপুর এলাকার শের-ই-বাংলা সড়কের বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম বাদল। পেশায় একজন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা।
মধ্যবয়সী এই মানুষটি ছোটবেলা থেকেই পশুপাখি পালনে আগ্রহী ছিলেন। প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলেও জীবনের শুরুতে আর্থিক সংকটে ভেস্তে যায় বাদলের সব স্বপ্ন।
শিক্ষাজীবন শেষে প্রথমে কোম্পানিতে চাকরি, পড়ে লাইব্রেরীর ব্যবসার লভ্যাংশ এবং সর্বশেষ ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তার বেতন যোগ করে কিছুটা স্বাবলম্বী হন বাদল।
এরপর ছোটবেলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের দিকে নিজ বাড়ীতেই পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে চার লাখ টাকায় তিনটি নারী জাতের টার্কি দুম্বা কিনেন তিনি।
বরিশালের আবহাওয়া দুম্বা পালনে উপযোগী হওয়ায় পর্যায়ক্রমে নারী-পুরুষ জাতের মোট ১৮ টি টার্কি দুম্বা কিনে ফার্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর থেকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আর তাকে।
সফল দুম্বা চাষী মো. রেজাউল করিম বাদল জানান, “প্রথমে ইউটিউব ঘেঁটে দুম্বা পালনের কৌশল জানার চেস্টা করি। কিন্তু ইউটিউবের কিছু কিছু মিথ্যা অফার দেখে প্রতারিত না হয়ে নিজে নিজেই সফল খামারী হওয়া চেস্টা করি। প্রথমে তিনটি দুম্বা কিনে শুরু করি। বর্তমানে খামারে ৭০ টি দুম্বা রয়েছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক কোটি টাকার কাছাকাছি।”
আপাতত বাজারজাত করার কোন পরিকল্পনা না থাকলেও প্রতিদিন দুম্বা কিনতে ফার্মের ভীড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
বাদলের দুম্বা খামারের কর্মচারীরা বলেন, প্রতিদিন সবুজ ঘাস, খড়, গম, ভুট্টা, ছোলা, গাছের পাতা খেয়েই বেড়ে উঠছে এসব দুম্বা। গত ফেব্রুয়ারী মাসে ১২ টি দুম্বার বাচ্চা হলেও দুই একমাস পড় আরো ৪০টি গাভিন দুম্বা বাচ্চা দেয়ার সময় হবে।
এমতাবস্থায় দুম্বা লালনপালনে ফার্মের জায়গায় সংকুলান হচ্ছে না। পাশাপাশি পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। প্রাণীসম্পদ বিভাগের নিয়মিত চিকিৎসা সহায়তা পেলেও সরকারি পৃষ্টপোষকতায় আরো বড় পরিসরে দুম্বার ফার্ম করতে চান বাদল।
উদ্যোক্তা বাদল আরও বলেন, ১৫ মাসে দুইবার বাচ্চা দেয়া দ্রুত বর্ধনশীল প্রাণী দুম্বার চাহিদা বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন স্থানের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তাই এই অঞ্চলের বেকার জনগোষ্ঠী কে দুম্বা পালনে আগ্রহী করার জন্য সরাসরি খামারী থেকে পরামর্শক হিসেবে কাজ করে জাতীয় পর্যায় ভূমিকা রাখতে চাই।
বরিশাল জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. নুরুল আলম বলেন, বরিশাল বিভাগে এই প্রথম দুম্বা পালন করা হচ্ছে। এতে আগ্রহ বাড়ছে অনেকের। প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর দুম্বা পালনে উদ্যোক্তাদের সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলে দুম্বা পালন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। তবে এখন পর্যন্ত দুম্বা পালনে ফলাফল ভালো। আমরা মনে করছিলাম উপকূলীয় অঞ্চলের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় দুম্বা পালনে অনুপযোগী থাকে কিন্তু বরিশাল অঞ্চলে দুম্বা পালনে তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না।