স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ :
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম-এমপি তৎকালিন সেনা প্রধান শফিউল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে বলেছিলেন শফিউল্লাহ তোমার আর্মি আমাকে আক্রমন করেছে। তুমি দেখো। দেখছি বলেও কোন কিছু করেনি। দ্বিতীয় বার বঙ্গবন্ধু আবার শফিউল্লাহকে ফোন করে বলে তুমি দেখো আমার কামালকে ওরা হত্যা করেছে। তুমি কি করো। তখন সে বঙ্গবন্ধুকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছিল।
তিনি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সের ১নং গেটের সামনে নির্মিত প্যান্ডেলে জাতির পিতার ১০২ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্যদানকালে এ কথা বলেন।
শেখ সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধু কোনদিন কারো কাছে মাথা নত করতে শেখেননি। আত্মসমর্পন করতে শেখেননি। তার কিছুক্ষণ পর বঙ্গবন্ধুকেও হত্যা করা হয়। কিন্তু শফিউল্লাহ যদি এক ট্রাকও আর্মি পাঠাতো তাহলে বঙ্গবন্ধু মারা যেতেন না। সে তা করে নাই। বরং তিনি রেডিও সেন্টারে গিয়ে মোস্তাক আর খুনিদের সাথে আনুগত্য প্রকাশ করেছেন।
শেখ সেলিম অারো বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা থেকে শুরু করে আমাদের স্বাধীকার আন্দোলন পর্যন্ত এই বাংলার মানুষের জন্য কষ্ট করেছেন, বারবার জেল খেটেছেন, ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন। তবুও তিনি বাংলার অধিকারের প্রতি একবারও পিছপা হননি।পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠি তাকে বার বার হত্যা করতে চেয়েছে, ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁকে হত্যা করার জন্য কবর পর্যন্ত খুঁড়েছিল। কিন্তু, আল্লার অসিম কৃপায় বঙ্গবন্ধুকে তারা হত্যা করতে পারেনি।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যে বাঙ্গালির জন্য সারাজীবন কষ্ট করেছেন, নিজের শান্তির দিকে, পরিবারের দিকে দেখেননি, কোনদিন আরাম আয়েশ করেননি, সেই বাঙ্গালী মীরজাফর মোস্তাক-জিয়া চক্র ৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে আমাদের কলকিংত করেছে।
তিনি অারো বলেন, জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য আল্লাহতালা তাকে পাঠিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু যুগে যুগে আসবেন না।তার দেশ প্রেম, ত্যাগ, মানুষের জন্য ভালবাসা বিশ্বে কতজনের আছে আমার জানা নাই।তিনি বলেন, শফিউল্লাহ এখনো বেঁচে আছে, কিন্তু, মানুষ তাকে আজ ঘৃনা করে।তিনি খালেদ মোশারফকেও বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য দায়ী করেন।খালেদ মোশারফকেও মরতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন যদি বঙ্গবন্ধুকে সে বাঁচাতে যেত তাহলে তার পরিনতি অমন হতো না।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পরিনতি সম্পর্কে শেখ সেলিশ এমপি বলেন, কর্নেল তাহেরকে বঙ্গবন্ধু চাকরী দিয়েছিল সেই তাহেরও বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত ছিল।সে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার জন্য গণবাহিনী করেছিল। সশস্ত্র বাহিনী করেছিল। সেনাহিনীর মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সে বিপ্লবী গ্রুপ তৈরী করেছিল।জিয়ার সাথে একত্রিত হয়ে রেডিও স্টেশনে গিয়ে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে যায়।কিন্তু, ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে জিয়ার সাথে তার দ্বন্দ হয় এবং এ নিয়ে কর্নেল তাহের-এর করুন পরিনতি হয়।তাকে ফাঁসি দেয়া হয়।পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলীকেও তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। এর প্রতিফল কি হয়েছে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক জুলফিকার আলী ভুট্টকে ফাসিঁ দিয়েছিল।
তিনি বলেন, কর্নেল গাদ্দাফি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ফারুক-রশিদদেরেকে আশ্রয় দিয়েছিল।সেই গাদ্দাফিকে তার দেশের জনগন রাস্তার উপর ফেলে পিটিয়ে হত্যা করেছে।তার পরিনতিও করুন।
শেখ সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নাই।বঙ্গবন্ধুর নাম খুনিরা মুছে ফেলতে চেয়েছিল।কিন্তু, যুতদিন বাংলার মানুষ থাকবে, বাংলার ইতিহাস থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।বঙ্গন্ধুর দৈহিক মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু আদির্শিক এই কর্মীর কোন দিন মৃত্যু হবেনা। বঙ্গবন্ধু আমাদের কাছে চীরদিন নক্ষত্রের মতো জ্বলবে। #