গত দুই দিন ধরেই সয়াবিন তেলশূন্য হয়ে পড়েছে বরিশালের বাজারগুলো। আবার যা পাওয়া যাচ্ছে তা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই অতিরিক্ত মূল্য দেখে তেল না কিনে খালি হাতে ফিরে আসছে বাজার থেকে। ক্রেতারা বলছে, অতিরিক্ত লাভের আশায় তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে বিক্রেতারা। দুই চারটি দোকানে তেল পাওয়া গেলেও তা অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে কিনতে হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরেই দেখা গেছে একই চিত্র।
মঙ্গলবার রাতে নগরীর বাজার রোড, বাংলাবাজার, চৌমাথা বাজার ও নতুন বাজারে গিয়ে দোকানগুলোতে সয়াবিন তেল না থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। যে কয়টি দোকানে রয়েছে সেখানেও তেল রয়েছে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ বোতল। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ— চাহিদা থাকলেও কোম্পানিগুলো তেল দিচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা মতো তেল দিতে পারছি না। তবে দাবি, ব্যবসায়ীরাই বাজার থেকে সয়াবিন তেল সরিয়ে রেখেছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজমিস্ত্রি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির আশায় বরিশালে সয়াবিন তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। অতিরিক্ত দামে কেনা অসম্ভব প্রায়। তিনি আরও বলেন, সব কিছুর মূল্যবৃদ্ধি পায় কিন্তু আমাদের দৈনিক মজুরিবৃদ্ধি পায় না। এ অবস্থায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধির আশায় দুদিন ধরে ব্যবসায়ীরা তেল বিক্রি না করে যার কাছে যে তেল রয়েছে তা দোকান থেকে সরিয়ে অন্যত্র মজুদ করে রেখেছে। যে কারণে ক্রেতারা সয়াবিন তেল কিনতে পারছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ জনগণ। কিছু অলিগলির দোকান ছাড়া কোনো জায়গাতেই মিলছে না সয়াবিন তেল।
খাবার হোটেল ব্যবসায়ী সফিক বলেন, প্রতিদিনের মতো আজও তেল কিনতে গিয়ে পড়েছি বিপাকে। সয়াবিন তেলের দাম যাই হোক হোটেল চালাতে তেল তো আমার লাগবে। তাই আমি পরিচিত দোকানিদের কাছ থেকে পাঁচ লিটারের একটি বোতল ৮৬৫ টাকায় নিয়েছি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭৮০ টাকা।
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে বাজারে এসেছেন আমজাদ হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেক দোকানে সয়াবিন তেল দেখেছি, কিন্তু কেউ বিক্রি করছে না। নিতে চাইলে অতিরিক্ত দামে হাঁকছেন। আমি নিরুপায় হয়ে ১৬৫ টাকা লিটারের তেল ২০০ টাকা করে দুই লিটার কিনেছি।
বাজার রোডের মুদি দোকানি শামসুর রহমান বলেন, দোকানে কোনো তেল নেই। কোম্পানি থেকেই সাপ্লাই নেই। আমরা বিক্রি করব কিভাবে। আমি কোনো তেল মজুত করিনি।
চৌমাথার ব্যবসায়ী মন্টু বলেন, তেল থাকলে তো বিক্রি করব। তেলই নেই। কিছু লাভের আশায় ক্রেতাদের ভোগান্তি করে তো লাভ নেই।
নগরীর সাগরদী বাজারের ব্যবসায়ী মো. মনির উদ্দিন বলেন, আমার দোকানে যে পরিমাণ সয়াবিন তেল ছিল সব গায়ে লেখা দামেই বিক্রি করে দিয়েছি। তবে প্রত্যককে চাহিদার তুলনায় বেশি ক্রয় করে নিয়ে গেছে।
বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাস ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের বাজার মনিটরিং টিম প্রতিদিন বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করছে। তাছাড়া গত কয়েক দিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবেই তেলের দাম বাড়ছে। তার ওপর যদি কোনো দোকানি বাড়তি লাভের আশায় সয়াবিন তেল মজুত করেন তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।