বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশন (বিএমটিএ) গঠন নিয়ে ২০২২ সালের শুরুতেই সরকার সমর্থিত দুটো গ্রুপের আলাদা আলদা নির্বাচন কমিশন গঠন হয়৷
প্রথমে দীর্ঘদিনের ঝিমিয়ে পড়া বিএমটিএ গঠনের উদ্যেগ নেয় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ( বিএমটিপি) এবং স্বাধীনতা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের গুটিকয়েক নেতাকর্মী।
যারা ১৫ জানুয়ারি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বিএমটিএ পূর্নগঠন নামে আলোচনায় আসে। তবে এদের সাথে দেশের অন্যকোন মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংগঠন এগিয়ে আসেনি যার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ৪১ সদস্যের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনে। কমিটির ৪০ নং সদস্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কমিটিতে বয়কট করেন৷ অপরদিকে এই কমিটির গঠিন নির্বাচন কমিশন নিয়েও আছে অনেক বিতর্ক। প্রধান নির্বাচন কমিশনার চন্দ্র শেখর সাহা, যিনি স্বাধীনতা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ (স্বামেপ) নেতা এবং স্বামেপের সর্বশেষ নির্বাচনে বর্তমান সভাপতি আলমাছ আলী খানের কাছে বিপুল ভোটে হেরেছিলেন৷
মূলত সেই থেকেই তিনি নীরবে স্বামেপ থেকে দূরে অবস্থান নিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সুশীতল ছায়ায় আশ্রিত৷ প্রসঙ্গত একজন পেশাগত সংগঠক কি করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করবে? যার ফলে এই কমিশন সাধারণ টেকনোলজিস্টদের নিকট গ্রহনযোগ্য হয়নি৷
অপরদিকে, বিএমটিএ পূর্নগঠনে পরেই নড়েচড়ে বসে মূল ধারার নেতৃত্ব দেয়া বিএমটিএ। বহুদিন পর ২১ জানুয়ারি ঢাকা আইএইচটির অডিটোরিয়াম বিপুল সংখ্যক মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সমাগম নিয়ে নিজের অবস্থান জানান দেয় বিএমটিএ সভাপতি আলমাছ আলী খান। দীর্ঘদিন পেশাগতভাবে উপেক্ষিত থাকার পর তার এই উৎখানে এবং প্রচেষ্ঠায় জাতি আশার আলো দেখতে পেয়েছিলো৷ স্বাধীনতা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ (স্বামেপ) , মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশন (এম-ট্যাব), সম্মিলিত টেকনোলজিস্ট পরিষদ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফোরাম, বেকার এন্ড প্রাইভেট সার্ভিসেস মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশন (বিপিএসএমটিএ), ল্যাবরেটরী টেকনোলজিস্ট পরিষদ সহ অনেক সংগঠন একাত্মতা জানিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করে৷ ঐ দিনই সকল সংগঠন (বঙ্গবন্ধু পরিষদ ব্যতীত) সমন্বয়ে গঠিত সার্চ কমিটি নাম প্রস্তাব করে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করে৷ কিন্তু সেই সার্চ কমিটি কিংবা নির্বাচন কমিশন গঠনে কোন ভূমিকা নেয়নি বিএমটিএ সভাপতি আলমাছ আলী খান। বারংবার তার উপর দায় চাপিয়ে যারা নিজের কোল রক্ষা করে চলেছে তাদের হাতেই অনেকটা সুচারুভাবে দায়িত্ব দিয়ে হলভর্তি করতালি নিয়ে হাসতে হাসতে বিদায় নিলেন তিনি।
এর আগে বহুবার নির্বাচন কমিশন গঠন করেও তিনি নির্বাচনমুখী করতে পারেননি সকলকে। এবার সেই দায় সমানভাবে সার্চ কমিটি এবং নির্বাচন কমিশনের উপর বর্তাবে।
এই কমিশনকে ১২০ দিনের ভিতর ভোটার তৈরী এবং নির্বাচন করার জন্য বলা হলেও তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না। ১২০ দিন পূরন করতে বাকি মাত্র ৫৭ দিন। বিশাল চ্যালেন্জে এবারও আলমাছ আলী খান তবে পার্থক্য শুধু তিনি একা এ ভাগী নন, ঐ সভায় গঠিত সার্চ কমিটি, সার্চ কমিটির প্রস্তাবে গঠিত নির্বাচন কমিশন সকলে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় বিএমটিএ প্যাডে সভা হলেও ব্যানারে বিএমটিএ লোগো ব্যবহার করা হয়নি। এটা কি সাংগঠনিক দূর্বলতার পরিচয় বহন করে নাকি অন্য কোন হিসেব তা আমার বুঝে এলোনা!
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পূর্নগঠিত বিএমটিএ প্রস্তাবিত কমিশন এবং সার্চ কমিটি কর্তৃক গঠিত নির্বাচন কমিশন মিলে যৌথভাবে ছয় (০৩+০৩) সদস্যের পূর্নাঙ্গ কমিশন গঠন হয় ০৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু আশ্চার্যজনক বিষয় হলো এখনও এই যৌথ কমিটি কোন সদস্য ফর্ম প্রণয়ন করতে পারেনি৷ আবার রাজনৈতিক পেশাজীবি সংগঠন স্বামেপের দূর্বল অবস্থানের কারনেই দূর্বার গতিতে চলে যাচ্ছে তথাকথিত পূর্নগঠিত বিএমটিএ।
তবে বিএমটিএ এখন কোন পথে?
লেখকঃ ওবায়দুর রহমান মাসুম
প্রধান সমন্বয়কারী,
দ্যা ভয়েজ অব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট।