এমন হেড লাইনে বিশদ লেখা যায় তবে অল্পতেই শেষ করব। বর্তমান প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে সৎ আদর্শবান ,ভদ্র,মার্জিত কর্মকর্তাদের উপজেলায় ইউএনও হিসাবে দায়িত্ব দিচ্ছে। বলা যায় আল্লাহর নেয়ামত হিসাবে বেতাগী উপজেলাবাসী জনাব সুহৃদ সালেহীন এর মত একজন সৎ আদর্শবান,জনবান্ধব ইউএনও পেয়েছে। যখন বেতাগী ছিলাম খুব অল্প দিনে তার সাথে ভাল সম্পর্ক হয়ে উঠে।তখন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার কাছে যেতাম।দেখতাম মনোযোগ দিয়ে সমস্যাগুলো শুনত। এই জনবান্ধব ইউএনও মহাদয়ের কাছে হতদরিদ্র মানুষের যে সব সমস্যা নিয়ে গিয়েছি সাধ্যমত চেষ্টা করেছে সমাধানের। যোগদানের পর আজ পর্যন্ত কোন অনিয়মতো দূরের কথা কোন ধরনের অভিযোগ নাই তার বিরুদ্ধে । একদিন তার বাসভবনে গেলাম আড্ডা দিলাম সে সময় বললাম রুমের এ অবস্থা কেন ,ইউএনও হিসাবে কোন চাকচিক্য নাই কেন ?সাদামাটা মানুষ সাদামাটা উত্তরও তেমন সৎ ভাবে থেকে বেতন দিয়ে চলতে গেলে চাকচিক্য করা যায় না। এবার আসি আসল কথায় ,শুরুতে যে রাবেয়ার কথা বলছি সেই রাবেয়া হচ্ছে বেতাগী সদর ইউনিয়নের ভোলানাথপুর গ্রামের অসহায় অসচ্চল স্বামী (নজরুল ) ছদ্মনাম এর স্ত্রী । একটি সন্তান রয়েছে তাদের । স্বামীর রোজগার দিয়ে কোন মতে সংসার চালায় ,তবে মাথা গোজার ঠাই নেই।এই রাবেয়া গ্রামের মাদবার ,মোড়ল সবার কাছে গেছে একটি ঘরের জন্য। বঙ্গবন্ধুর জন্মমত বার্ষিকীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরর ঘর উপহার পাওয়ার জন্য।মেম্বর চেয়ারম্যান ঘর দেয় শুনে তিনি গেলেন নজরুল চেয়ারম্যানের কাছে চেয়ারম্যান বলল আফজাল মেম্বরের কাছে যেতে । আফজাল মেম্বর বলল ঘর কি চাইলেই পাওয়া যায়। শেষ মেশ বলল হাজার বিশেক টাহা লাগবে। নুন আনতে পান্তা ফুরায় রাবেয়া টাকা না দিতে পারলেও এদিক ওদিক দৌড়াইয়া যেভাবেই হোক তার ঘরের তালিকায় নাম যায় পরবর্তীতে আফজাল মেম্বর চেয়ারম্যানের যোগসাজসে তালিকা থেকে রাবেয়ার নাম বাদ দিয়ে দেয় । পরের বুদ্ধিতে রাবেয়া যায় থানায় মামলা করতে ওসি সাহেব বলে ইউএনও স্যারের কাছে যান।তখন ওসি সাহেবের রুমে আমিও ছিলাম। রাবেয়া মন খারাপ করে থানা থেকে বেড়িয়ে যায়। একদিন পর হঠা্ৎ ফোন ভাই আমি রাবেয়া ,ভোলানাথপুর বাড়ী আপনার সাথে দেখা করতে চাই। দেখা করলাম দেখেই চিনে ফেললাম এই রাবেয়া তো থানার রাবেয়া। ঘটনা শুনলাম পরে বললাম কাল আসেন ,নিয়ে গেলাম জনবান্ধব
ইউএনও সুহৃদ সালেহীন সাহেবের কাছে। তিনি মনযোগ দিয়ে তার কথা শুনে বলল দ্বিতীয় দফায় আসলে ঘর পাবেন। জানতে চাইলাম আমার নম্বর কে দিল বলল ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন ভাই। ইউএনও মহাদয়ের যেমন কথা তেমন কাজ আজ রাবেয়ায় বাড়িতে মালামাল গেছে। রাবেয়া আনন্দে আত্মহারা মোবাইল বের করে আমাকে ফোন দিল আমার ফোন বন্ধ থাকলেও আলভী,সিলভী মানে আমার কন্যাদের মা হঠাৎ বোন ওপেন করে এর মধ্যে কল আসে তিনি রিসিভ করেন বলেন ভাবী আমি রাবেয়া রিয়াজ ভাই কোথায় জানতে চাইল কেন? বলল তার কারনে টিএনও স্যারে ঘর দিছে । এই খুশির খবর তারে না জানাইয়া পারি। ধন্যবাদ ইউএনও মহাদয় আজ রাবেয়ার মুখে হাসি ফুটেছে আপনার কারনে । আপনাদের মত কর্মকর্তা মাঠ পর্যায় থাকলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে। হাসি ফুটবে দরিদ্র মানুষের মুখে ।