উমর ফারুক শাবুল, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তির ইতিহাসবিদ, শেকড় সন্ধানী ইতিহাস গবেষক সৈয়দ আবদুল্লাহ। আধুনিক বাংলা ইসলামি সাহিত্যের অন্যতম বাক নির্মাতাদের অন্যতম তিনি। মাসিক মদীনার তিন যুগের জনপ্রিয় লেখক ও গবেষক। বৃহত্তর সিলেটের সমকালীন কৃর্তিমান মনীষীদের তিনি অন্যতম। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান নিয়ে এই বরেণ্য ইতহাস গবেষকের লেখা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসাবে কাজ করেন।পাশাপাশি লিখেছেন বঙ্গবন্ধু সহ জাতীয় অনেক বিষয়ের উপর গবেষণাগ্রন্থ।
সিলেট ও তরফ (হবিগঞ্জের প্রাচীন নাম) অঞ্চল নিয়ে ব্যাপক কাজ করেছেন। তরফ সাহিত্য পরিষদের মতো মহীরুহের ন্যায় প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেছেন। প্রান্তিক ইতিহাস থেকে শেকড়ের সন্ধানে তার বিচরণ পলাশির পান্তর পর্যন্ত। পলাশি নিয়ে তারঁ লেখা গ্রন্থ উভয় বাংলায় সমাদৃত।
বিএনএস ইংল্যান্ড সাহিত্য স্বর্ণ পদক সহ পেয়েছেন জাতীয় আন্তর্জাতিক অনেক সম্মাননা, পদক ও পুরস্কার। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন বহু বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা। ২০০৮ সালে সিলেট বিভাগের ২৫ টি শিল্প সাহিত্য ও সাংবাদিক প্রতিষ্ঠান মিলে গ্রামিণফোনের সহযোগীতায় বর্ণিল নাগরিক সংবর্ধনার মাধ্যমে তাকে “তরফরত্ন” উপাধীতে ভুষিত করা হয়। বর্ষীয়ান এই লেখক গবেষক ও বহুগ্রন্থ প্রণেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ তিন বছর ধরে জটিল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। ০২-০৪-২০২২ইং শনিবার ভোর ৩ঃ২০ ঘটিকার সময় ঢাকা ধানমন্ডি বাসায় ৭২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
মরহুমের জানাজার নামাজ শনিবার বেলা ২ঃ৩০ মিনিটের সময় উনার নিজবাড়ী উত্তরসুর (খন্দকার বাড়ী) তে অনুষ্ঠিত হয়।