• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বানারীপাড়ায় বাস শ্রমিক-মাহিন্দ্রা চালকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর সমযোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২২, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ণ
বানারীপাড়ায় বাস শ্রমিক-মাহিন্দ্রা চালকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর সমযোতা

জি.এম রিপন,বানারীপাড়া
বরিশালের বানারীপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নেয়াকে কেন্দ্র করে গেটলক সার্ভিস দেয়া যাত্রীবাহি বাস সেবা ও মাহিন্দ্রা-আলফার মধ্যে দু’দিনে চার দফা সংঘর্ষের পর ক্ষতিপূরণ দিয়ে সমঝোতা করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত পৃথকভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটার পর বাস মারিক ফোরামের নেতৃত্বে দু’পক্ষের মধ্যে এ সমঝোতা করা হয়।
এব্যাপারে বানারীপাড়ার মাহিন্দ্রা-আলফা চালক মো.জামাল হোসেন খান যুগান্তরকে জানান, শুক্রবার সকাল অনুমান সাড়ে ৭টার দিকে সে বানারীপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বরিশালগামী দু’জন যাত্রী ওঠায়। এসময় বাস সট্যান্ডে থাকা বরিশালগামী গেটলক সার্ভিস সেবার চালক মো.সাকিল আহম্মেদ ও হেলপার মো.শফিকুল ইসলামসহ ৩/৪ জনে তার ওপর হামলা চালায়। তাদের ওই হামলার পরেও যাত্রীরা জামাল খানের মাহিন্দ্রায় বরিশালে যান। এসময় গেটলক সার্ভিস সেবার চালক ও হেলপার তার ওপর আরও ক্ষিপ্ত হন। পরে তারা যাত্রী নিয়ে বরিশাল যাওয়ার পথে পিছন থেকে ধাওয়া করেন এবং চৌয়ারীপাড়া ঈদগাহ সংলগ্ন সড়কে তারা মাহিন্দ্রা থামিয়ে চালক জামাল খানকে মারধর করেণ। এঘটনার পর ওই দিন রাত ৮টার দিকে মাহিন্দ্রা-আলফা চালক জামাল খান বরিশাল নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডের সামনে থেকে বানারীপাড়ায় আসার পথে ৫/৬ জন বাস শ্রমিক তাকে মাহিন্দ্রা থেকে নামিয়ে এ্যালোপাথারী মারধর করেণ। এসময় তারা জামাল খানের মহিন্দ্রা-আলফার সামনের গ্লাস ভাংচুর করেণ এবং তার গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেন। পরে খবর পেয়ে নতুল্লাবাদ মাহিন্দ্রা-আলফা স্ট্যান্ড থেকে শ্রমিকরা সেখানে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
এঘটনার বিচারের দাবীতে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বানারীপাড়া মাহিন্দ্রা-আলফা স্ট্যান্ড থেকে চালকরা গাড়ির চাবি শ্রমিক ইউনিয়নে জমা রেখে বাস স্ট্যান্ডে যান। সেখানে গিয়ে তারা গেটলক সার্ভিস সেবার যাত্রী বহনে বাধার সৃষ্টি করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর হামলা করেন। এসময় মাহিন্দ্রা-আলফা চালকদের হামলায় ছাব্বির নামের এক বাস চালক আহত হন।
এব্যাপারে বরিশাল বাস মালিক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.জগলু হাওলাদার যুগান্তরকে জানান, প্রতিদিন বানারীপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে মাহিন্দ্রা-আলফা চালকরা যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া শনিবার দুপুরে বানারীপাড়া বাস স্ট্যান্ডে মাহিন্দ্রা-আলফা চালকরা হামলা চালিয়। এতে একজন বাস চালক গুরুতর আহত হন। পরে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহিন্দ্রা-আলফা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সাথে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ওই ঘটনার একটা সুষ্ঠ সমাধান করার চেষ্টা করি। আমরা দুই গ্রুপের চালক ও হেলপাদের পরবর্তীতে সড়ক পথে চলাচলের সময় শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলার আহবান জানিয়েছি। এক্ষেত্রে তাদেরকে একে অপরের স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী না তোলার আহবান জানানো হয়। এছাড়া দুই সংঘঠনের আহত দু’জন চালকদের চিকিৎসা সেবার ব্যাবস্থা করার পাশাপাশি ভেঙ্গে ফেলা মাহিন্দ্রার গ্লাস কিনে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী রোববার ওই ঘোষনা বাস্তবায়ন করা হয়। এছাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে আর কোন সময় মাহিন্দ্রা-আলফা চালকরা যাত্রী তুলতে পারবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এব্যাপারে জেলা অটো-টেম্পু ও মাহিন্দ্রা-আলফা শ্রমিক ইউনিয়নের মেম্বর মো.আবুল কালাম যুগান্তরকে জানান, আমরা কোন সময় বাস স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নেইনা। অনেক সময় আছে, আমাদের অনেক পরিচিতজন জরুরী কোথাও যেতে চাইলেই সামনে থাকা একটি মাহিন্দ্রা-আলফা পেলে উঠে বসেন। এক্ষেত্রে চালকরা ওই যাত্রীদেরকে নিতে হন। এছাড়া সেবার সঙ্গে তাদের পৃথক চারটি সংজ্ঞাতের ঘটনা নিয়ে জেলা বাস মালিক ফোরামের দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা মাহিন্দ্রা-আলফা চালক জামাল খানকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি তার গাড়ির ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে বলেও কালাম জানান। এসময় আওয়ামী লীগ নেতা রিয়াজ তালুকদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ একাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।