• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের সোনালী ধানে ভরে গেছে জমি”

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৭, ২০২২, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের সোনালী ধানে ভরে গেছে জমি”

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : কোটালীপাড়া উপজেলার বাগান উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক মফিজ শেখ। তিনি এ বছর বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউটের উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান ‘উৎকৃষ্ট জিংক সমৃদ্ধ’ “বঙ্গবন্ধু-১০০” জাতের ধান রোপণ করেছি। গত বছর আমি এই জমিতেই হাইব্রিড হীরা জাতের ধান রোপণ করেছিলাম। গত বছরের চেয়ে এ বছর আমার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এই জমিতে যে ধান পারো তা দিয়ে আমার সারা বছরের ধানের চাহিদা মিটে যাবে। এই জাতের ধানের ফলন ভাল হওয়ায় এখন অনেক কৃষক “বঙ্গবন্ধু-১০০” জাতের ধান রোপণ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় “বঙ্গবন্ধু ১০০” জাতের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সোনালী ধানে ভরে গেছে উপজেলার দু’টি বিলের এক’শ বিঘা জমি। এসব জমির কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তাদের চোখে মুখে এখন রঙ্গিন স্বপ্ন।

জানাগেছে, দেশের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু জিংকের অভাবজনিত নানা রোগে ভুগে থাকে। সাধারণত জিংকের অভাবে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয় এবং শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই অবস্থার মধ্যেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআরআরআই) বিজ্ঞানীরা বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের ধানের উদ্ভাবন করেন।

বিভিন্ন সময়ে ব্রি-৬২, ব্রি-৬৪, ব্রি-৭২, ব্রি-৭৪, ব্রি-৮৪ এবং “বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০” এই ছয়টি জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বিআরআরআই। এগুলোর মধ্যে “বঙ্গবন্ধু ১০০” জাতটি অন্যদের তুলনায় উৎকৃষ্ট। মান ও উৎপাদনের দিক দিয়ে ভালো হওয়ায় এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রদর্শনী প্লট তৈরির কাজ চলছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধ করার ক্ষমতাগুণের উচ্চফলনশীল এই ধান মূলত বোরো মৌসুমের।

জিংক সমৃদ্ধ ব্রি বঙ্গবন্ধু-১০০ নতুন জাতের এ ধানটি আধুনিক উফশী ধানের বৈশিষ্ট্যসংবলিত। পূর্ণবয়স্ক গাছের উচ্চতা হবে ১০১ সেন্টিমিটার। জীবনকাল ১৪৮ দিন। এ ধানে জিংক রয়েছে ২৫৭ মিলিগ্রাম, এটি দেখতে নাজিরশাইল বা জিরা ধানের দানার মতো হবে। বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০ জাত ধানের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭ দশমিক ৭ টন। তবে অনুকূল পরিবেশ ও উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে হেক্টর প্রতি ৮ দশমিক ৮ টন পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে যা সন্তোষজনক।

আজ রবিবার (১৭ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে “বঙ্গবন্ধু ১০০” জাতের এ ধান কর্তন শুরু হয়েছে। উপজেলার বাগান উত্তরপাড়া বিলে কৃষক মফিজ শেখের জমির ধান কর্তনের মাধ্যমে এ জাতের ধান কর্তন শুরু হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে ধান কর্তন অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিটুল রায়সহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউট নতুন জাতের ধান “বঙ্গবন্ধু ১০০” আবিস্কার করেছেন। আজকে সেই জাতের ধান জাতির জনকের পূর্ণভূমি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শোভা পাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিটুল রায় বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউট থেকে আমাদের এ উপজেলায় বিনামূল্যে ৩’শ কেজি ধান দিয়েছিল। সেই ধান আমরা তিন কেজি করে ১০০ জন কৃষককে দিয়েছিলাম। এসব কৃষকরা ১’শ বিঘা জমিতে এই “বঙ্গবন্ধু ১০০” জাতের ধান রোপণ করেছিলেন। এ জাতের ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। তাই এসব কৃষকরা এ জাতের ধান রোপণ করে খুবই আনন্দিত।

বঙ্গবন্ধু দরিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বাপার্ড) এর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ তোজাম্মেল হক বলেন, “বঙ্গবন্ধু ১০০” জাতের ধানের বিশেষ বৈশিষ্ট হলো এটি একটি জিংক সমৃদ্ধ ধান। এতে জিংকের পরিমান ২৫.৭ মিলিগ্রাম। যা মানবদেহের জিংকের ঘাটতি পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।

বঙ্গবন্ধু দরিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বাপার্ড) এর মহা-পরিচালক সৈয়দ রবিউল আলম বলেন, দেশের কৃষকগণ যাতে “বঙ্গবন্ধু ১০০” জাতের ধান রোপণে উদ্বুদ্ধ হয় তার জন্য বাপার্ড কাজ করে যাচ্ছে। #