• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছয় মাসে চারবার বাড়ল বিমান ভাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৮, ২০২২, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ছয় মাসে চারবার বাড়ল বিমান ভাড়া

আরও এক দফা বাড়ল ঢাকা-বরিশাল রুটে বিমান ভাড়া। এ নিয়ে ছয় মাসে চারবার ভাড়া বাড়ানো হলো এই রুটে। এমনিতেই এ্যারোনটিক্যাল মাইলের হিসাবে দূরত্ব অনুযায়ী অন্য রুটের তুলনায় ভাড়া হওয়া উচিত অর্ধেকেরও কম। অথচ বেশি দূরত্বে ভাড়ার সমান আদায় করছে ঢাকা-বরিশাল আকাশ পথের বিভিন্ন বিমান সংস্থাগুলো। তার ওপর আবার ভাড়া বাড়ানোর কারণে যাত্রীদের চলাচল হ্রাস পাবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোর মধ্যে স্বল্প দৈর্ঘ্যরে রুট হচ্ছে ঢাকা-বরিশাল। এই রুটের দূরত্ব হচ্ছে মাত্র ৬১ এ্যারোনটিক্যাল মাইল। প্রতিদিন গড়ে ৫টি করে ফ্লাইট চলাচল করে এই রুটে। অথচ এই রুটের যাত্রীদের বিমানে ওঠা প্রশ্নে গুনতে হয় ঢাকা থেকে ১৪৬ এ্যারোনটিক্যাল মাইল দূরত্বে থাকা সৈয়দপুর রুটের সমান ভাড়া। বর্তমানে ৬১ এ্যারোনটিক্যাল মাইলের ঢাকা-বরিশাল রুটের সর্বনিু ভাড়া ৪৮০০ টাকা ও ১৪৬ এ্যারোনটিক্যাল মাইলের ঢাকা-সৈয়দপুর রুটের সর্বনিু ৫০০০ টাকা। যদিও ৬ মাস আগেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সুপার সেভার ভাড়া ছিল ২৫০০ টাকা। একইভাবে নভো এয়ারের স্পেশাল প্রোমো ২৯৯৯ টাকা এবং ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের লিমিটেড অফার ২৬৯৯ টাকা। কিন্তু ৬ মাসের ব্যবধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সুপার সেভার ভাড়া ছিল ৩৫০০ টাকা, নভো এয়ারের স্পেশাল প্রোমো ৪৮০০ টাকা ও ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড অফার ৪৮০০ টাকা করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে ১৪৬ এ্যারোনটিক্যাল মাইল দূরে থাকা সৈয়দপুরের ভাড়া ছিল ৫ হাজার টাকা। এই হিসাবে ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে প্রতি এ্যারোনটিক্যাল মাইলে যেখানে ভাড়া দাড়ায় ৩৪ টাকা ২৪ পয়সা সেখানে ঢাকা-বরিশাল রুটে আদায় করা হয় প্রতি এ্যারোনটিক্যাল মাইলে ৭৮ টাকা ৬৮ পয়সা। সে ক্ষেত্রে সৈয়দপুরের তুলনায় ডাবল ভাড়া দিচ্ছে বরিশালের যাত্রীরা।

দূরত্ব অনুপাতে ভাড়ার এই বৈষম্য বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা-বরিশাল রুটে বিমান পরিচালনা করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএস বাংলা ও নভো এয়ারের কর্মকর্তারা বলেন, সমন্বয় সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে এই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু বলা বা করার নেই। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবলই বেবিচকের (বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ)।

এই বৈষম্য বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, শুধু বরিশাল নয়, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে শুরু করে পায়রা বন্দর ও বরিশাল বিভাগের প্রায় ৬ জেলার মানুষ বিমানের ভাড়ার বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। আমরা ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ জানাই। আমরা চাই অন্য রুটে যেভাবে ভাড়া রয়েছে, আমাদেরও এ্যারোনটিক্যাল মাইল অনুসারে ভাড়া নির্ধারণ করা হোক। তারা ঈদের সময় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করে থাকে। এটারও আমরা প্রতিবাদ জানাই।

বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, বিষয়টি আমারও দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলের মানুষ কেন অতিরিক্ত ভাড়া দেবে? বিষয়টি সম্পর্কে বেবিচককে লিখব। প্রয়োজনে বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করব। দ্রুত যাতে দূরত্বের ভিত্তিতে ঢাকা-বরিশাল রুটের বিমান ভাড়া নির্ধারণ হয় সে ব্যাপারে অনুরোধ জানাব।