রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
রংপুরে পিতার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ও কেনা সম্পত্তি ফিরে পেতে স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১২টায় স্থানীয় সূমি কমিউনিটি সেন্টারে পিতার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ও কেনা সম্পত্তি ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারটি। লিখিত সংবাদ সম্মেলন পাঠ করেন পরিবারের বড় ছেলে আনিছুল হক, লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার পিতা- মৃত নিজাম উদ্দিন, মাতা- মোছাঃ রাবেয়া বেগম, গ্রাম- পার্বতীপুর দোলাপাড়া, ওয়ার্ড নং-১৭, সিটি কর্পোরেশন রংপুর। আমরা মোট ১১ ভাই-বোন। আমার পিতা নিজাম উদ্দিন গত ৬/১০/২০১৫ সালে ইন্তেকাল করেন। আমার দাদার এক ছেলে ও তিন মেয়ে। আমার দাদার সর্বমোট ৭৫ শতাংশ জমি থাকায় আমার পিতা ও ফুফুদের মাঝে তা বন্টন করা হয়। আমার ফুফুরা তাদের প্রাপ্য জমি আমার পিতা ও পিতার চাচাতো ভাই আব্দুল মতিন চাচার কাছে বিক্রয় করে। সব মিলিয়ে আমার পিতার পৈত্রিক ও কেনা সম্পত্তিসহ মোট ৫৪ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে আমরা ভোগ দখল করিতেছি মোট ৩০ শতক। ২৪ শতক জমি আমার সম্পর্কিত চাচা অবৈধভাবে ভোগ দখল করিতেছে। ২৪ শতক জমির ৪০/৬২ রেকর্ড আমার দাদা/পিতার নামে কিন্তু আমার সম্পর্কিত চাচা চতুরতার সহিত ৯২ রেকর্ড তার নামে করে নেয়। আমার পিতা সরল মনে বিষয়টি গ্রহণ করে আমার চাচাকে জমি ফেরত দিতে বলেন কিন্তু আমার সম্পর্কিয় চাচা চতুরতার সহীত আমার পিতাকে বলেন আপনার জমি আপনিই পাবেন, আপনার নামেই রেকর্ড করা হবে চিন্তার কিছু নাই। চাচার সন্তানরা এ বিষয়ে সব জানতেন।
আমার পিতা মৃত্যুর পর আমার মা ও আমরা জমির কথা বললে সম্পর্কীয় চাচা ও তার ছেলেরা প্রথমে আশ^াস প্রদান করলেও পরে তালবাহানা শুরু করে। তারা নাকি আমার পিতার নিকট জমি পায় বলে দাবি করে। এক পর্যায়ে ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল গফফার এর অফিস কার্যালয়ে দুই (২) বার মিমাংসার জন্য বসা হয় বিচারে রায় তারা মেনে নিলেও পরে তা বাস্তবায়ন না করে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে গাছের শুপাড়ি পারা নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল মতিনগং আমাদের পরিবারের উপর অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এতে করে আমার ভাইরাসহ পরিবারের কয়েকজন গুরুতর আহত হয় ও বাড়ির আসবাবপত্র ভাংচুর করে। আহতরা রংপুর মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। এর প্রেক্ষিতে রংপুর কোতয়ালী থানায় মামলা করা হয় যাহার নং ৩৭/১৯৬ তাং ১৪/৩/২০২২ ইং। যা অজ্ঞাত কারণে আসামী ধরেনি কিংবা কোন ব্যবস্থা নেয় নি। কোন প্রতিকার না পেয়ে কোটে একটি মামলা করি যাহার নং ৬০/২১৯ তাং ২২/৩/২০২২ ইং সেখানে আব্দুল মতিনগং জামিন নিয়ে আমাদের পরিবারের উপর হুমকি দিচ্ছে ও আমাদের জেলে ঢুকাবে, মেরে ফেলবে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করছে। এ ব্যাপারে আমরা থানায় একটি জিডি করেছি। আমরা নিরুপায় হয়ে আপনাদের দারস্থ হয়েছি আপনারাই পারেন লেখনির মাধ্যমে আমাদের ন্যয় বিচার পাইয়ে দিতে। আমরা আমাদের পিতার জমি ফেরত চাই, আমরা বাচঁতে চাই, অসহায় পরিবারটিকে আপনারা সহযোগীতা করুন। আমরা আপনাদের মাধ্যমে সরকার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মৃত- নিজামের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন, ছেলে- ইদ্রিস, আজাদ, রাসেল, দুলালসহ ছেলেদের বৌ, নাতি-নাতনী ও সাংবাদিকবৃন্দ।